


রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: যেকোনো সরকারি প্রকল্প গড়তে মাঝেরডাবরি চা বাগান কেন, এই প্রশ্ন তুলে মাঝেরডাবরি চা বাগানের শ্রমিকরা তাদের বাগানের জমিতে প্রস্তাবিত আলিপুরদুয়ার মেডিকেল কলেজ তৈরি করতে দিতে নারাজ। শ্রমিকদের দাবি, কোনোভাবেই বাগানের জমিতে মেডিকেল কলেজ তৈরি করতে দেওয়া হবে না। এমনটা হলে তারা ভিটেমাটি, এমনকী কাজ হারানোর আশঙ্কা করছেন। তাই মেডিকেল কলেজ হতে না দেওয়ার দাবিতে বুধবার বাগানের শ্রমিকরা ফ্যাক্টরির গেটের সামনে জমায়েত হন। বিক্ষোভও দেখান।
এদিন ছিল মাঝেরডাবরি চা বাগানে সাপ্তাহিক কাজের ছুটির দিন। শ্রমিকরা ফ্যাক্টরির গেটের সামনে জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসেন বাগানের জেনারেল ম্যানেজার চিন্ময় ধর। শ্রমিকরা বাগানের জমিতে প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ তৈরির প্রতিবাদে জেনারেল ম্যানেজারকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসককে গণস্বাক্ষরিত স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঠিক হয়েছে, ডিএম’কে ডেপুটেশন দিতে তাঁদের সঙ্গে বাগান ম্যানেজারকেও সঙ্গে যেতে হবে। শেষপর্যন্ত কয়েকজন শ্রমিক প্রতিনিধিকে বাগান ম্যানেজার নিজের গাড়িতে তুলে নিয়ে জেলাশাসকের দপ্তর ডুয়ার্সকন্যায় যান। যদিও বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসক ময়ূরী ভাসুর কোনো বক্তব্য মেলেনি।
বাগান ম্যানেজার চিন্ময় ধর বলেন, এখানে আমাদের কোনো বিষয় নেই। শ্রমিকরা না চাইলে বাগানের জমিতে মেডিকেল কলেজ তৈরি হবে না। তাছাড়া, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আমাদের বাগানের জমি নিয়ে এখনও কোনো চূক্তিও হয়নি। রাজ্য সরকার মেডিকেল কলেজ তৈরির জন্য ৩০ একর জমি চেয়েছে। সরকার শুধু জমি পছন্দ করেছে। শ্রমিকদের এই আপত্তি নিয়ে জানতে আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক পরিতোষ দাসকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রতিবারই বিধায়কের ফোন ব্যস্ত দেখিয়েছে।
কিন্তু, বাগানের জমিতে মেডিকেল কলেজ তৈরিতে শ্রমিকদের আপত্তি কেন? মাঝেরডাবরি চা বাগানের শ্রমিকরা বলেন, এর আগে আলিপুরদুয়ার পুরসভার সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের জন্য বাগানের জমি দেওয়া হয়েছিল। এবার মেডিকেল কলেজ তৈরির জন্য জমি দেওয়া হবে। শ্রমিক ভগৎ মাঝি বলেন, এভাবে বারবার জমি দিয়ে বাগানটি ছোটো করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। এর ফলে আমরা কাজ হারাব। মহিলা শ্রমিক বিরাজমনি খাড়িয়া বলেন, মেডিকেল কলেজ হলে আমাদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হবে। তখন আমরা পরিবার নিয়ে কোথায় যাব? শ্রমিক রোমিতা লাকড়া বলেন, বাগানের গাছ তো আমরাই লাগিয়েছি। তাহলে জমি দেওয়ার সময় বাগান কর্তৃপক্ষ কেন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন মনে করল না? • নিজস্ব চিত্র।