


সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: সকালের ঝমঝমিয়ে বৃষ্টিতে দুরুদুরু আশঙ্কা। দুপুরে মেঘ কেটে রোদ উঠলেও নাইটদের ভাগ্যাকাশে সূর্যোদয় ঘটল না। তা মেঘে ঢাকা তারা হয়ে ঘোর অন্ধকারাচ্ছন্নই!
জাতিস্মর নন, জয়শলমিরেও জন্মাননি ২১ বছর বয়সি মুকুল চৌধুরি। তবে তাঁর তাণ্ডবেই সোনার চেয়েও দামি দু’পয়েন্টের সন্ধান পেল লখনউ। তারুণ্যের স্পর্ধায় তিনি চুরমার করলেন কলকাতার দুর্গ ইডেনকে। অথচ, একসময় নিশ্চিত দেখাচ্ছিল হোমটিমের জয়। কিন্তু মুকুল তা ছিনিয়ে নিয়ে গেলেন অবিশ্বাস্যভাবে। কিছুদিন আগে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে প্রায় দুশো স্ট্রাইকরেটের মারকাটারি ব্যাটিং প্রথম নজর কাড়েন রাজস্থানের কিপার-ব্যাটার। সেই আসরে মারেন ১৩টা ছক্কা। নিলামে তাঁকে নিয়ে তুমুল লড়াই চলেছিল মুম্বইয়ের সঙ্গে। কিন্তু ২.৬০ কোটি টাকায় বাজিমাত করে এলএসজি। তারই প্রতিদান দিলেন মুকুল। একগাল হেসে ম্যাচের সেরা হিন্দিতে বললেন, ‘বাবা স্বপ্ন দেখতেন যে ছেলে ক্রিকেট খেলবে। তবে আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। তবু বিশ্বাস হারাইনি কখনো। শেষ পর্যন্ত থাকতে চেয়েছিলাম ক্রিজে। জানতাম তাহলেই জেতাতে পারব।’
আলো ঝলমলে লখনউ শিবিরের পাশেই নিস্তব্ধ নাইট ড্রেসিং-রুম। এই পরাজয় হজম হচ্ছে না কিছুতেই। অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানের গলায় হাহাকার, ‘১৮ ওভার পর্যন্ত মুঠোতেই ছিল ম্যাচ। কিন্তু শেষ দু’ওভারে কী যে হয়ে গেল! ওদের অবশ্য হারানোর কিছু ছিল না। যা চালিয়েছে লেগে গিয়েছে। তবে মুকুলকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। অসাধারণ কয়েকটা শট মারল।’ চার ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্টে, নেতা রাহানেকে ঘিরেও বাড়ছে প্রশ্নচিহ্ন। মুম্বইকর সেটা বিলকুল টেরও পাচ্ছেন।
নাইট শিবির অবশ্য এখনই বড়সড় রদবদলের পথে হাঁটছে না। তবে হতাশা থাকছেই। মিডিয়া সেন্টারে আসা রভম্যান পাওয়েল বলে ফেললেন, ‘এটাই ক্রিকেট। এমন অনেক কিছু ঘটে, যার ব্যাখ্যা মেলে না। হ্যাঁ, আমাদের কাজটা কঠিন হয়ে গেল। ঘরের মাঠে আমরা সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। তবে দিনটা মুকুলেরই ছিল।’ ফিন অ্যালেনের আউট নিয়ে অবশ্য ক্ষোভ রয়েছে যথেষ্ট। ক্যারিবিয়ানের সাফ কথা, ‘অনেক ছোটখাটো ব্যাপারেও প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়। অথচ, এটা নেওয়া হল না!’
লখনউয়ের সমর্থনে এদিন ইডেনে এসেছিলেন মোহন বাগানের দুই তারকা জেমি ম্যাকলারেন ও পেত্রাতোস। দু’জনেই অজি। আর তাই একসময় ধর্মসংকটেই পড়ে যান। কার জন্য চেঁচাবেন, মিচেল মার্শ নাকি গ্রিন? ইডেনকেও অবশ্য ধর্মসংকটে ফেলেন মহম্মদ সামি। উইকেট না পেলেও ৯টা ডট করলেন বাংলার পেসার। চলতি আসরে তিনটি ম্যাচ খেলা বোলারদের মধ্যে তাঁর ইকনমি রেটই (৫.৩৩) সেরা। চোখের জলে মাঝরাতে ইডেনফেরত জনতার সেটাই যা সান্ত্বনা!