


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মেজানাইন ফ্লোরে নানা ওজনের লোহার বল সাজানো। ইতস্তত ছড়ানো ডাম্বেল, বারবেল, সুইস বল। ট্রেনিং চলছে ঘড়ির কাঁটা মেপে। বেঙ্গালুরুর র্যাপিড স্পোর্টস ফিটনেস সেন্টারই এখন নাওরেম মহেশ সিংয়ের ঠিকানা। রিহ্যাব চলছে পুরোদমে। লাল-হলুদের মণিপুরি ফুটবলার কবে মাঠে ফিরবেন? বেঙ্গালুরু থেকে মহেশ জানালেন, ‘বিশ্বাস করুন, ইস্ট বেঙ্গল জার্সি গায়ে চাপাতে তর সইছে না। তবে সবার আগে ফিটনেস জরুরি। ট্রেনারের গ্রিন সিনগ্যাল পেলেই ক্লাবকে জানাব।’ জানা গেল, সব ঠিকঠাক চললে জানুয়ারিতেই ম্যাচ ফিট হয়ে যাবেন মহেশ। উল্লেখ্য, গত মরশুমে চেন্নাইয়ানের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন মহেশ। বাকি মরশুমে তাঁর সার্ভিস পায়নি ইস্ট বেঙ্গল। হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করতে হয় তাঁকে। দ্রুত ফিট হতে গার্ডেন সিটিকে বেছে নিয়েছিলেন নাওরেম। জিম, সুইমিংয়ের পাশাপাশি জগিংও শুরু হয়েছে। ইস্ট বেঙ্গলের ম্যাচ থাকলে মোবাইলে নজর রাখেন। আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের কোচিংয়ে খেলতে মুখিয়ে রয়েছেন তিনি। বললেন, ‘প্রতিটা মুহূর্ত মিস করছি।’ মহেশ পুরো ছন্দে ফিরলে হাবাস ব্রিগেডের ভারসাম্য আরও বাড়বে সন্দেহ নেই।
শিলং লাজং থেকে নাওরেম মহেশের উত্থান। ২০২১-২২ মরশুমে লোনে ইস্ট বেঙ্গলে যোগ দেন। এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোলের পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। স্টিফেন কনস্টানটাইন হোক বা কার্লোস কুয়াদ্রাত—সব জামানাতেই মহেশ অটোমেটিক চয়েস। মহানদীর পাড়ে সুপার কাপ ফাইনালে তিনি যেন নিজেকেও ছাপিয়ে যান। ওড়িশার বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে পিছিয়ে ছিল ইস্ট বেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধে মহেশের রক্ষণচেরা পাস কাজে লাগিয়েই সমতা ফেরান নন্দকুমার। উইংয়ের পাশাপাশি মাঝমাঠে ফিডার হিসাবেও মহেশ অনবদ্য। বাঁ পায়ে শেফিল্ড ছুরির ধার। রক্ষণের ফাঁক খুঁজে থ্রু পাস বাড়ানোর বিরল ক্ষমতাও মহেশের স্পেশাল। এমনকি, ঘরোয়া আলোচনায় খুঁতখুঁতে কুয়াদ্রাতও বলেছিলেন, ‘নাওরেম সত্যিই গেম চেঞ্জার।’ সেই মহেশই এখন চোটের কবলে। অপারেশনের পর প্রত্যাবর্তন বেশ কঠিন। তবে মহেশ আত্মবিশ্বাসী। বললেন, ‘সমর্থকরা আমার জন্য প্রার্থনা করুন। খেলোয়াড়ের জীবন এমনটাই। ওঠানামা থাকবেই। তবে সুযোগ এলে সেরাটা উজাড় করে দেব।’
নাওরেম মহেশের পাশাপাশি মহম্মদ রাকিপকে নিয়েও উদ্বিগ্ন অনুরাগীরা। গত মরশুমে কিশোর ভারতীতে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে গোড়ালি ভাঙে তাঁর। সার্জারির পর রাকিপও ফেরার লড়াই চালাচ্ছেন। তবে তাঁর সঙ্গে ইস্ট বেঙ্গলের চুক্তি শেষ।