


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তে সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে রবিবার রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন। সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজে গতি আনার ব্যাপারে কেন্দ্র এবং রাজ্যের আধিকারিকদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সীমান্ত সুরক্ষার লক্ষ্যে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় বৃদ্ধি এবং কাঁটাতারের জন্য প্রয়োজনীয় জমির দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। রাজ্য জানিয়েছে, ১৪১২ একর জমি বিএসএফকে হস্তান্তরের জন্য রাজ্য মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই অনুমোদন দিয়েছে।
দেখা যাচ্ছে, সীমান্তে বহু এলাকায় কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব নয় এবং সীমান্তের অনেকাংশে জলাভূমি রয়েছে। সেই সমস্ত এলাকায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে সুরক্ষা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে একটি মডিউল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সচিব। সেই মডিউল হল ভাসমান ফাঁড়ি বা ফ্লোটিং আউটপোস্ট।
রবিবার বিশ্ববাংলা মেলা প্রাঙ্গণে টানা তিন ঘণ্টা চলে এই বৈঠক। রাজ্যের তরফে যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, স্বরাষ্ট্র সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, ডিজি রাজীব কুমার সহ অন্যান্য পদস্থ কর্তারা। এই বৈঠকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। পুলিস, সংশোধনাগার, আদালত এবং ফরেন্সিক— চারটি ক্ষেত্রেই কী কী করা হয়েছে, তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়েছে। তবে এদিনের বৈঠকে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য দ্রুত জমি হস্তান্তরের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফ যে পরিমাণ জমি চেয়েছে, তার অধিকাংশেরই হস্তান্তরে মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে। বিষয়টি রাজ্যের তরফে তুলে ধরা হয়। সুতরাং দ্রুত এই সমস্ত জমি কেনার কাজ শেষ করে বিএসএফের
হাতে তুলে দেওয়ার জন্য রাজ্যকে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ২৯১ কিলোমিটার সীমান্ত বরাবর কাঁটাতার দিতে রাজ্যের কাছে ১৫০৫ একর জমি চাওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে ২৬৮ কিলোমিটার এলাকায়
কাঁটাতার দিতে প্রয়োজনীয় ১৪১২ একর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য রাজ্য মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে। বাকি ৯৩ একরও দ্রুত অধিগ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে এর মধ্যে ১৩২ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতার দিতে ৬৮০ একর জমির টাকা দিয়েছে কেন্দ্র। এর মধ্যে ৬৫.৬০ কিলোমিটার কাঁটাতার দেওয়ার জন্য ৩২৪ একর জমি রাজ্য হস্তান্তর করে দিয়েছে।