


সংবাদদাতা, কাটোয়া: ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী কাজও হয়েছে। তাঁর বিধায়ক তহবিলের ১০০ শতাংশ টাকা খরচ করেছেন মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী। উন্নয়নের নিরিখেই মানুষ ফের তাঁকে ভোট দেবেন বলে দাবি তৃণমূল প্রার্থীর। যদিও বিরোধীদের দাবি, উন্নয়ন কী হয়েছে, তা এলাকার মানুষ ভালোভাবেই জানেন। তাঁরা এবার সঠিক নেতাকেই বেছে নেবেন।
২০২১-২২ এবং ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে ৬০ লক্ষ টাকা করে পেয়েছেন অপূর্ব চৌধুরী। ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের প্রতি অর্থবর্ষে ৭০ লক্ষ করে টাকা করে তিনি পেয়েছেন। পাঁচ বছরে মোট ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা তাঁর তহবিলে এসেছে। তার মধ্যে ৩ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। অর্থাৎ, প্রায় ১০০ শতাংশ।
বিধায়কের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলকোটকে সিসি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা। তাতে ৪৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। শ্রী যোগাদ্যা বাণীপীঠ উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে চারটি অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করে দিয়েছেন। তারজন্য বিধায়ক তহবিলের ৭৪ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। লাখুরিয়া পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণ করতে ১৪ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। কৈথন পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণের জন্য ১৭ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। কৈচর ষোড়শীবালা উচ্চবিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ক্লাস রুমের জন্য ৩৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলকোটের লালডাঙা ফুটবল মাঠের সংস্কার ও পার্ক করার জন্য ১০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। ধারশোনা ফুটবল মাঠের জন্য বিধায়ক তহবিলের ১৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। মঙ্গলকোট পুলিশের ব্যারাক তৈরির জন্য ৯ লক্ষ টাকা দিয়েছেন বিধায়ক। পাঁচ কিমি রাস্তা তৈরির জন্য ৮ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। এছাড়াও প্রচুর সোলার আলো লাগিয়েছেন।
মঙ্গলকোট কৃষি প্রধান এলাকা। তাই চাষিদের জন্য সোলার সাবমার্সিবল বসিয়ে দিয়েছেন অপূর্ব চৌধুরী। তিনি বলেন, আমি আমার তহবিলের পুরো টাকাই খরচ করেছি। মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। এবার তাঁরাই বিচার করবেন।
মঙ্গলকোটের বিজেপির কিষান মোর্চার রাজ্যের সহ সভাপতি বুদ্ধদেব মণ্ডল বলেন, বিধায়ক ১০০ শতাংশ কাজ করেছেন বলে দাবি করেছেন। কিন্তু মঙ্গলকোটের মানুষ বলবে আদৌ তিনি কতটা কাজ করেছেন। দুর্নীতিতে গোটা ব্লকটা শেষ হয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনায় দুর্নীতি করা হয়েছে। ধান কেনা হচ্ছে মিল থেকে। উন্নয়নের নামে প্রহসন হয়েছে। কোথাও ঢালাই রাস্তার উপর পুনরায় ঢালাই হয়েছে। যেখানে ছ’ ইঞ্চি দেওয়ার কথা, সেখানে তিন ইঞ্চি ঢালাই হয়েছে। সিপিএম নেতা দুর্যোধন সর বলেন, উন্নয়ন যা হয়েছে মানুষ সেটা টের পাচ্ছেন। এবার তাঁরা বিচার করবেন।
তৃণমূল বিধায়ক আরও বলেন, সারা বছর মানুষের সঙ্গে থাকি। বিপদে আপদে মানুষের পাশে দাঁড়াই। উন্নয়নের নিরিখে আমি জেতার ব্যাপারে আশাবাদী। গতবারের ভোট প্রচারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অধিকাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। আমার বিধায়ক তহবিলের আর একটা টাকাও পড়ে নেই। মানুষ কাজ দেখেই আমাকে পুনরায় নির্বাচিত করবেন। বিরোধীরা কাজ করে না। ভালো কাজ দেখতেও পায় না।-নিজস্ব চিত্র