


বুয়েনস আইরেস: আর্জেন্তিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেস থেকে গাড়িতে মিনিট বিশেকের পথ। শহরতলি ভিলা ফিওরিতোতে ৫২৩ অ্যামাজর স্ট্রিটের বাড়িতে বাজছে কুম্বিয়া মিউজিক। উঠোনে বড় বড় কড়াই, টগবগ করে ফুটছে চিকেন স্টু। আর দরজার সামনে পাত্র হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে কয়েকশো মানুষ। বাড়ির দেওয়ালে ডিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা ও তাঁর বাবা-মায়ের ম্যুরালের উপর লেখা ‘দ্য হাউস অব গড।’ হ্যাঁ, এখানেই ছেলেবেলা কেটেছে বাঁ পায়ের জাদুকরের। বর্তমানে যা হয়ে উঠেছে আর্জেন্তিনার ক্ষুধার্ত মানুষের অন্যতম ভরসা। আর্জেন্তিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের কঠোর অর্থনৈতিক সংস্কার নীতির চাপে সর্বহারা মানুষদের জন্য চালু করা হয়েছে এই কমিউনিটি কিচেন।
ভিলো ফিওরিতোর এই পাড়ায় মারাদোনার শৈশব কেটেছে চরম অর্থকষ্টে। মা ‘ডোনা তোতা’ বেশিরভাগ দিনই পেট ব্যথার ভান করতেন। যাতে ছেলে পেট ভরে খেতে পায়। আর সেই ছেলেই হয়ে ওঠেন বিশ্বের সেরা ফুটবলার। কিন্তু ছেলেবেলার স্মৃতি মারাদোনা কোনোদিন ভোলেননি। ২০২০ সালে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন ফুটবলের রাজপুত্র। বাড়িটা অবশ্য আগেই হাতছাড়া হয়েছিল। ২০২১ সালে সরকার এই বাড়িটিকে জাতীয় ঐতিহাসিক স্থান ঘোষণা করে। কিন্তু, এখন তা নতুন পরিচয় পেয়েছে।
আর্জেন্তিনার প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক সংস্কারে দেশজুড়ে কুড়ি হাজারের বেশি ব্যবসা বন্ধ। প্রভাব পড়েছে ভিলো ফিওরিতোতেও। হাজার হাজার মানুষ কাজ হারিয়ে দু’বেলা অন্ন জোটাতে পারছিলেন না। তখন এগিয়ে আসেন ফাদার লিওনার্দো তোরেস ও লিওনার্দো আলভারেজ। বাড়ির বর্তমান মালিককে রাজি করিয়ে উঠোনটা ব্যবহার করেন কমিউনিটি কিচেনের জন্য। আগুন জ্বললো, রান্না শুরু...। যাঁরা আসেন, তাঁদের অনেকেরই লজ্জায় মাথা নীচু থাকে। কারণ, এই মানুষগুলো আগে কখনও সাহায্য চাননি। ফাদার তোরেসের কথায়, ‘ডিয়েগোর থেকে শুনেছি, তাঁর মায়ের না খেয়ে থাকার গল্প। আমরা চাই অনেক ‘তোতা’ এবং ‘ডিয়েগো’ এখান থেকে পেট ভরিয়ে বাড়ি ফিরুক। মারাদোনা এই দৃশ্য দেখলে নিশ্চয় খুশি হতেন। হয়তো বা উপর থেকে দেখছেনও।’