


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন। সেই উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে সূচিত হবে তাঁর জন্মদিন পালনের অনুষ্ঠান। এরই অঙ্গ হিসাবে এরাজ্যে প্রদীপ জ্বালানোর যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, তাতে শুধুমাত্র কলকাতার বিভিন্ন ভাটিতেই তৈরি হয়েছে প্রায় ২০ কোটি মাঝারি মাপের প্রদীপ। তা ইতিমধ্যে গিয়েছে দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, দুর্গাপুর এবং পাহাড়ে। বেশ কিছুদিন আগে থেকেই শুরু হয় এই প্রদীপ তৈরির কাজ। তা লরি, ম্যাটাডোর প্রভৃতি যানবাহনে করে ওই সমস্ত জেলায় পাড়ি দিয়েছে। মঙ্গলবারও তা অব্যাহত ছিল। কুম্ভকার সংগঠনের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, ক্যানিং, বারুইপুরের উত্তরভাগ, ডায়মন্ডহারবার, কুলপি, ফলতা, কাকদ্বীপ, জীবনতলা বিভিন্ন এলাকা থেকে টন টন আসা এঁটেল মাটি দিয়ে তৈরি হয়েছে এই বিপুল পরিমাণ প্রদীপ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই সমস্ত এলাকা থেকে পাওয়া এঁটেল মাটির গুণগত পরিমাণ ভালো থাকার কারণেই এই সমস্ত এলাকার মাটি দিয়ে তৈরি হয়েছে এই প্রদীপ। পোড়ামাটির পাশাপাশি নানা সুদৃশ্য রঙিন প্রদীপও তৈরি করেছেন কুম্ভকাররা।
ওয়েস্ট বেঙ্গল আর্থ পট মেকার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহনলাল প্রজাপতি বুধবার বলেন, কলকাতার কাশীপুর, চিৎপুর, উল্টোডাঙার কবিরাজ বাগান, দক্ষিণদাড়ি, কাঁকুড়গাছি, ফুলবাগান, বাগমারি, কসবা প্রভৃতি এলাকায় রয়েছে একাধিক ভাটি। সেখানে প্রদীপসহ বিভিন্ন মাটির কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় হাজারখানেক মানুষ। একমাস ধরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলে এই প্রদীপ তৈরির কাজ। সেখান থেকেই বিভিন্ন জেলায় যায় এই প্রদীপ। কুম্ভকারদের একাংশ এদিন বলেন, বৃষ্টির জেরে দফায় দফায় কিছুদিন কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটে। কারণ বৃষ্টির জল ভাটিতে ঢোকায় তাতে ভাটি বন্ধ হয়ে যায়। রাজেশ প্রজাপতি নামে এক কুম্ভকার এদিন বলেন, বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠনসহ নানা প্রতিষ্ঠান ভাটি থেকে নিয়ে গিয়েছেন হাজার হাজার নানা ডিজাইনের প্রদীপ। প্রদীপ তৈরির কারণে কিছুদিন অন্য কাজ বন্ধ রাখি। শম্ভু প্রজাপতি
নামে আরেক কুম্ভকার বলেন, ‘সামনেই দুর্গাপুজো। তারপর রয়েছে আরও নানা পুজো‑পার্বণ। স্বভাবতই ব্যস্ততা তুঙ্গে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন বলে কথা! তাই বিভিন্ন জায়গা থেকে এই প্রদীপ তৈরির বরাত পেয়ে তাতে দ্রুত হাত লাগাই।’