


মাদ্রিদ: চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আর রিয়াল মাদ্রিদ একে অপরের পরিপূরক। অতীতে পারফরম্যান্সের মধ্যে দিয়ে বারবার একথা প্রমাণ করেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। চলতি মরশুমেও তার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। প্রি কোয়র্টার-ফাইনালে শক্তিশালী ম্যাঞ্চেস্টার সিটিকে দু’লেগ মিলিয়ে ৫-১ ব্যবধানে দুরমুশ করেন ভিনিসিয়াসরা। সেই সঙ্গে ১৬ তম ইউরোপ সেরার খেতাব জয়ের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যান তাঁরা। তবে শেষ আটের লড়াইয়ে এবার রিয়ালের সামনে বায়ার্ন মিউনিখ। ভিনসেন্ট কোম্পানির প্রশিক্ষণে দুরন্ত ফর্মে জার্মান ক্লাবটি। সব টুর্নামেন্ট মিলিয়ে টানা১৩ ম্যাচ অপরাজিত তারা। এর মধ্যে জয় ১২টিতে। তাই মঙ্গলবার ঘরের মাঠে রিয়ালের জন্য কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। তবে বায়ার্নের দুরন্ত দৌড় থামিয়ে জিতে মাঠ ছাড়াই লক্ষ্য আলভারো আর্বেলোয়া ব্রিগেডের।
চলতি মরশুমে মাঝপথেই কোচ ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটে রিয়াল। জাবি আলোন্সোকে সরিয়ে ‘বি’ দলের দায়িত্বে থাকা আর্বেলোয়াকে কোচ হিসেবে নিয়োগ করা হয়। প্রাক্তন এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডারের প্রশিক্ষণে সাময়িকভাবে ঘুরে দাঁড়ায় রিয়াল। নতুন কোচের হাত ধরে ছন্দে ফেরেন ভিনিসিয়াস, যা অবশ্যই রিয়ালের জন্য স্বস্তির খবর। তবে একইসঙ্গে এমবাপের গোল খরা বায়ার্ন ম্যাচের আগে বড় চিন্তা মাদ্রিদ ডাগ-আউটে। একেই চোটের কারণে বেশ কয়েকটি ম্যাচে মাঠের বাইরে ছিলেন ফরাসি তারকা। সুস্থ হলেও ক্লাবের হয়ে সেভাবে ছন্দে নেই তিনি। তাই বায়ার্নের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে জিততে হলে এমবাপের গোলে ফেরা জরুরি।
এই ম্যাচেও চোটের কারণে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে পাবে না রিয়াল। বিশেষত তিন কাঠির নীচে অভিজ্ঞ কুর্তোয়ার অনুপস্থিতি সবথেকে বেশি চিন্তায় রাখছে রিয়াল কোচকে। তবে ঘরের মাঠে লড়াইয়ে নামার আগে বায়ার্নের বিরুদ্ধে অতীতের পরিসংখ্যান কিছুটা হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে রিয়ালকে। এর আগে ২০১৭, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নক-আউট পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল দু’দল। প্রতিবারই শেষ হাসি হাসে স্প্যানিশ ক্লাবটি। শুধু তাই নয়, তিনবারই খেতাব ঘরে তোলে রিয়াল। তাই আরও একবার বায়ার্নকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পথটা সুনিশ্চিত করতে মরিয়া তারা। অন্যদিকে, অ্যাওয়ে ম্যাচ হলেও জিতে মাঠ ছাড়তে মরিয়া বায়ার্ন। তবে আপফ্রন্টে হ্যারি কেনের চোট কিছুটা হলেও চিন্তায় রাখবে কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানিকে। আন্তর্জাতিক বিরতিতে দেশের হয়ে গোড়ালিতে আঘাত পান ইংল্যান্ড তারকা। তাই হ্যারি কেন না পারলে গোলের জন্য ডিয়াজ-নাব্রিদের দিকে তাকিয়ে থাকবে জার্মান ক্লাবটি।
দিনের অপর ম্যাচে স্পোর্টিং লিসবনের মুখোমুখি হবে আর্সেনাল। ঘরোয়া ফুটবলে পরপর দু’টি টুর্নামেন্টে শিপোরা জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করেছে গানাররা। তাই সেই হতাশা ঝেড়ে ফেলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ভালো কিছু করতে মরিয়া মিকেল আর্তেতা ব্রিগেড। তবে অ্যাওয়ে ম্যাচে স্পোর্টিং লিসবনের কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে ওডেগার্ডদের জন্য।