


কানসাস সিটি, ১৭ জুন: বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মতোই শুরু। কানসাস সিটির গ্যালারি থেকে শুরু করে শহরের রাস্তাঘাট সবখানেই ছিল আর্জেন্টিনা উৎসবের আবহ। আর সেই উৎসবকে পূর্ণতা দিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তাঁর দুরন্ত হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অভিযান শুরু করল আর্জেন্টিনা। দেশের জার্সিতে ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমে যা যাদু আজ মেসি দেখাল তা হয়ত বিশ্বকাপে ইতিহাস হয়ে থাকবে। মাঠে নেমে মেসি বুঝিয়ে দিলেন, কেন এখনও তিনিই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা।
ভারতীয় সময় ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে কানসাস সিটির মাঠে শুরু হয় আর্জেন্তিনা-আলজেরিয়ার প্রথম বিশ্বকাপ ২০২৬ এর ম্যাচ। শুরুর দিকে দুই দলই অফসাইডের ফাঁদে পড়ে। প্রথমার্ধের ৫ মিনিটের মাথায় বল জালে জড়ালেও গোল পাননি মেসি। কাকতালীয়ভাব কয়েক মিনিট পর একই কারণে বাতিল হয় আলজেরিয়ারও একটি গোল। ফলে শুরুতেই ম্যাচে উত্তেজনার পারদ চড়ে যায়। প্রথমদিকে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠ খুব একটা ছন্দে ছিল না। আলজেরিয়ার ডিফেন্ডাররা মেসিকে ঘিরে রাখার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তাঁকে আটকে রাখা যে কত কঠিন, তা আবারও প্রমাণ করলেন মেসি। ১৭ মিনিটের মাথায় প্রথম গোল করে আর্জেন্তিনা। আর গোলের নেপথ্যে লিও মেসি। আর এই গোলেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।
প্রথমার্ধে আলজেরিয়া কয়েকবার পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও আর্জেন্টিনার ধারে কাছে ঘঁসতে পারেনি তারা। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই হাফ টাইমে যায় লিওর দল। দ্বিতীয়ার্ধে জুলিয়ান আলভারেজ ও নিকোলাস গঞ্জালেজ মাঠে নামার আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। দেখতে দেখতেই ৬০ মিনিটের মাথায় দ্বিতীয় গোল। ফের মাঠে দেখা গেল মেসি জাদু। এরপর অপেক্ষা ছিল শুধু হ্যাটট্রিকের। তখন গ্যালারি থেকে শুধু একটাই নাম ‘মেসি, মেসি’। দ্বিতীয় গোলের ১০ মিনিটের ব্যবধানে অপেক্ষার অবসান। অবশেষে ৭০ মিনিটে নিখুঁতভাবে বল জালে জড়িয়ে নিজের তৃতীয় গোল সম্পূর্ণ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ৯০ মিনিট পরে অতিরিক্ত ৬ মিনিটে আর কোনো গোল হয়নি দু'পক্ষেরই। ৩-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ মিশনের স্বপ্নের সূচনা করল আর্জেন্তিনা।
এই ম্যাচে মেসি ছাড়াও গোটা ফুটবল বিশ্বের নজর ছিল আলজেরিয়ার এক ফুটবলারের দিকেও। তিনি হলেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম কিংবদন্তী জিনেদান জিদানের পুত্র লুকা জিদানের দিকে। কিন্তু আলজেরিয়ান গোলরক্ষক লুকা এদিন তিনবার পরাস্ত হলেন ফুটবলের রাজপুত্র মেসির কাছে।