


মেক্সিকো সিটি: অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম, মেক্সিকোর কথা উঠলে স্মৃতিতে একটা নামই আসে। হুগো স্যাঞ্চেজ। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ‘এল ত্রি’দের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। দেশের মাটিতে আয়োজিত মেগা আসরে একার কাঁধে দলকে কোয়ার্টার-ফাইনালে তুলেছিলেন তারকা ফরোয়ার্ড। কিন্তু অ্যাজটেকায় পশ্চিম জার্মানির কাছে পেনাল্টি শ্যুটআউটে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাঁদের। সেই ক্ষত আজও দগদগে হুগোর মনে। আর দীর্ঘ ৪০ বছর পর মেক্সিকো আবার বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক। ইতিহাসে প্রথম কোনো দেশ হিসেবে তৃতীয়বার মেগা আসর আয়োজক করবে তারা। আর বৃহস্পতিবার সেই অ্যাজটেকাতেই বিশ্বকাপের ঢাকে কাঠি পড়ছে। উদ্বোধনী ম্যাচে গ্রুপ এ’তে মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। উত্তরসূরিরা তৈরি হুগো স্যাঞ্চেজের অধরা স্বপ্ন সার্থক করতে। তাই জয় দিয়ে অভিযান শুরু করতে মরিয়া মেক্সিকো।
হুগো অবশ্য তাঁর দেশকে নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নন। মেগা আসরে বল গড়ানোর আগে তাঁর মন্তব্য, ‘মনেপ্রাণে চাই, মেক্সিকো চ্যাম্পিয়ন হোক। কিন্তু মাথা সেটা বলছে না। কারণ, এই দলকে বিশ্বের সেরা দশের মধ্যেই রাখা যাবে না। তবে ওরা যদি আমায় ভুল প্রমাণিত করে, তাহলে সবচেয়ে খুশি হব।’ আসলে ২০২৬ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর কোচ হতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন হুগো। কিন্তু দেশের ফুটবল ফেডারেশন তা মানেনি। তবে দেশের মাটিতে মেগা আসর মাতাতে ওচোয়ারা তৈরি। উদ্বোধনী ম্যাচে ফিফা র্যাংকিংয়ে ৬০ নম্বরে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে জেভিয়ার আগিরের ছেলেরা। আক্রমণভাগে দলকে ভরসা দিতে তৈরি রাউল গিমেনেজ। মাঝমাঠে আছেন ফেনারবাখের হয়ে ফর্মে থাকা আলভারেজ। আর তেকাঠির দায়িত্বে তো আছেনই ওচোয়া। পক্ষান্তরে, দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফের বিশ্বকাপে দেখা যাবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। মহাদেশের (সিএএফ) কোয়ালিফায়ারে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে মেগা আসরের টিকিট পেয়েছে প্রোটিয়ারা। হুগো ব্রুসের ছেলেরা লড়াই করতে জানে। তাই মেক্সিকোর বিরুদ্ধে জান লড়িয়ে দিতে প্রস্তুত ফস্টাররা।
খেলা শুরু রাত ১২-৩০ মিনিটে।