


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ক্যাম্পে সরকারি পরিষেবা নিতে এসে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ হারালেন এক প্রৌঢ়া। জনকল্যাণ শিবিরে দীর্ঘক্ষণ ভিড়ের মধ্যে অপেক্ষার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। শিবির থেকে বেরিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। বুধবার সাঁকরাইলের আন্দুলে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরকে কেন্দ্র করে এই ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্যুইলা পঞ্চায়েতের মিল বাজার এলাকার বাসিন্দা শিপ্রা দাস (৫০) সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিতে এদিন শিবিরে এসেছিলেন। শিবিরের তৃতীয় দিনে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ ভিড় ও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর শিবির থেকে বেরিয়ে কয়েক পা হাঁটতেই মাথা ঘুরে রাস্তায় পড়ে যান তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে প্রথমে কাছাকাছি একটি দোকানে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক সেবার ব্যবস্থা করেন। প্রত্যক্ষদর্শী টিঙ্কু চক্রবর্তী বলেন, ‘ওই সময় তিনি কার্যত অচেতন অবস্থায় ছিলেন। কথা বলতে পারছিলেন না। এমন পরিস্থিতিতে শিবিরে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকা উচিত ছিল।’ স্থানীয় ব্যবসায়ী কার্তিক রজতের অভিযোগ, ‘মহিলাকে পড়ে যেতে দেখে আমরা সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাই। পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। শিবিরে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও গাড়ির ব্যবস্থা করা যায়নি। পরে নিজেরাই টোটো ডেকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে তাঁকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য উলুবেড়িয়ার অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় শিবিরের অব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিষেবা নিতে আসা বহু মানুষের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও বয়স্ক নাগরিকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ছিল না। যদিও সাঁকরাইল ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিকের দাবি, প্রতিটি জনকল্যাণ শিবিরেই মেডিক্যাল ক্যাম্প ছিল এবং অসুস্থ প্রৌঢ়াকে সেখানে নিয়ে গেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া যেত।
ক্যাম্পের বাইরে অসুস্থ শিপ্রা দাস। -নিজস্ব চিত্র