


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বাড়ি ফেরার পথে পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর। ছিনিয়ে নেওয়া হল মোবাইল এবং টাকা। প্রায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। অবশেষে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন থেকে অচেতন ও আহত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে তাঁকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, অসমের লামডিংয়ের স্থানীয় বাসিন্দা বাপন দাস। গত ২০ আগস্ট বেঙ্গালুরু থেকে ট্রেনে বাড়ির পথে রওনা দেন তিনি। তারপর থেকেই মোবাইলে কোনোরকম যোগাযোগ করতে পারছিলেন না পরিবারের লোকেরা। এরপর কোনো খোঁজ না পেয়ে লামডিং থানায় নিখোঁজ হওয়ার একটি ডায়েরি করেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বাপনের কোনও খোঁজ না মেলায় দুশ্চিন্তা আরও বাড়তে থাকে পরিবারে। অবশেষে গতকাল শুক্রবার বিকেলে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে এক অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবককে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁর সঙ্গে কথা বলার পর জানা যায়, সে অসমের বাসিন্দা। তবে কীভাবে বেঙ্গালুরু থেকে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে এসে পৌঁছন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলতে পারছিলেন না সে। পাশাপাশি তাঁর কাছে টাকা না থাকায় টিকিট কেটে বাড়ি ফেরারও কোনো উপায় ছিল না। সেইসঙ্গে ওই যুবকের হাত-পা সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন লক্ষ করেন স্থানীয়রা। এরপর জলপাইগুড়ির একটি বৃদ্ধাশ্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করায় বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ ওই যুবককে সেখানে থেকে নিয়ে যায়।
বৃদ্ধাশ্রমের তরফে জানা গিয়েছে, আশঙ্কা করা যাচ্ছে ট্রেনে খাবারের সঙ্গে কোনও মাদকজাতীয় পদার্থ খাইয়ে বাপনকে অচেতন করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর তাঁর কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি শরীরে আঘাতের চিহ্নটি কোথা থেকে আসল না তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। অবশেষে বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ অসমে বাপনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে ফিরিয়ে দেন।