


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: হরিয়ানা থেকে লুকিয়ে বাড়ি ফিরলেন অশোকনগরের এক ঠিকাদার। তাঁর কথায় উঠে এসেছে ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্তার ভয়ানক ছবি। বাড়ি ফিরেও ট্রমা কাটেনি নাথুরাম বিশ্বাসের। বললেন, ওখানে বাঙালি শ্রমিকদের আটকে রেখে স্বাধীনতার আগের নথি দেখতে চাইছে পুলিস। ভোর বা গভীর রাতে আচমকা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করছে পুলিস। জোর করে রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি বলানো হচ্ছে। শুধু এই কথাটুকু ভিডিও রেকর্ড করছে ওরা।
অশোকনগর পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপল্লি এলাকার বাসিন্দা নাথুরাম বিশ্বাস। ২৭ বছর ধরেই নাথুরাম হরিয়ানার গুরগাঁওয়ের সেক্টর ফাইভ এলাকায় ঠিকাদারি করেন। তিনি থাকেন গুরগাঁওয়ের শীতলা কলোনিতে। সেক্টর ফাইভে মূলত ভিআইপি মানুষদের বসবাস বেশি। সেখানে তিনি এলাকায় নোংরা আবর্জনা সংগ্রহের কাজের ঠিকাদারি করেন। শ্রমিকদের অধিকাংশই অসমের বাসিন্দা। বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য বাংলাদেশি সন্দেহে বিজেপি শাসিত পুলিসের ধরপাকড় ইস্যুতে গোটা দেশে, এমনকী আন্তর্জাতিক স্তরেও শোরগোল পড়েছে।
নাথুরামের কথায়, রাত ১১-১২টা বা ভোর তিনটে থেকে চারটের মধ্যে হরিয়ানা সরকারের পুলিস বাঙালি শ্রমিকদের তুলে নিয়ে যেত। থানায় ও ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রেখে বাঙালিদের উপর অত্যাচার চালাত। ভারতীয় প্রমাণ করতে ওরা চাইছে স্বাধীনতার আগের নথি। অন্যথায় চলছে নির্মম নির্যাতন। এর মাত্রা বাড়তেই আমি লুকিয়ে ছিলাম এক বন্ধুর বাড়িতে। কর্মীদের লুকিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। আমার পরিচিত বাঙালিদের জোর করে রোহিঙ্গা কিংবা বাংলাদেশি বলানো হয়। যতক্ষণ না বলত, ততক্ষণ চলত অত্যাচার। ভিডিও রেকর্ডিং করা হতো শুধু জোর করে বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা স্বীকারোক্তির অংশ। আধার, ভোটার সহ ভারতের নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখালেও রেহাই মেলেনি। আমি লুকিয়ে বাড়ি ফিরেছি। তিনি আরও বললেন, সন্ত্রাসের ফলে অনেক মানুষের জীবন দুর্বিষহ। কাজ না করলে সংসার চালাব কীভাবে?
আর এই ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে তৃণমূল। স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী বলেন, আসলে বিজেপি মানুষ বিরোধী। নাহলে এই ধরনের নির্যাতন সম্ভব না। যে বাংলা দেশকে পথ দেখায় সেই বাঙালিরা আজ নির্যাতিত। নেত্রীর দেখানো পথেই ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিজেপিকে আমরা বাংলা থেকে উৎখাত করব।