


প্রিয়ব্রত দত্ত: পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবিতে কাজ করছেন মিমি চক্রবর্তী। পরিচালক-নায়িকার এই জুটি নিঃসন্দেহে স্পেশাল। ছবির নাম ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। ‘পথের দাবি’ প্রকাশিত হওয়ার পর ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে উপন্যাসটিকে। শাসকের সঙ্গে সরাসরি আইনি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। শাসকের সঙ্গে সংঘাত বাঁধলে পরাধীন ভারতের আদালত মামলাটিকে চিহ্নিত করত ‘এম্পারার ভার্সেস মামলাকারী বা অভিযুক্ত’-এর নামে। ফলে নিষিদ্ধ ‘পথের দাবি’কে কেন্দ্র করে তৎকালীন বিদ্বজ্জন, স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সাধারণ দেশবাসীর মধ্যে আলোড়ন পড়ে যায়। এর ঐতিহাসিক ইতিবৃত্ত তুলে ধরবে সৃজিতের পরবর্তী ছবি ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। ‘গুমনামী’র পর ফের পরাধীন ভারতের পটভূমিতে নজর ঘোরালেন পরিচালক। তাঁর কথায়, ‘শরৎচন্দ্রের সৃষ্ট চরিত্র, দৃশ্যপট, গল্পের বিন্যাস সব কিছু ভীষণ রিলেটেবল। এখনকার দর্শকও কথাশিল্পীর বিভিন্ন সৃষ্টির সঙ্গে একাত্ম হতে পারেন। প্রকাশের ছ’মাসের মধ্যে নিষিদ্ধ করা হয় ‘পথের দাবি’কে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ও শরৎচন্দ্রের মধ্যে দ্বন্দ্ব ঘিরে উত্তাল হয়েছিল গোটা বাংলা, দেশ। সেই ইতিহাস ও সময়কে নিয়েই এই ছবি।’ তাঁর ব্যাখ্যা, ‘পথের দাবি উপন্যাসের কাহিনি কিন্তু এই ছবির বিষয় নয়। বরং তৎকালীন প্রেক্ষাপট তুলে ধরছি আমরা।’ সে সময়ে আরও বহু গ্রন্থ নিষিদ্ধ করেছিল ব্রিটিশ সরকার। তাহলে ‘পথের দাবি’ বাছলেন কেন? পরিচালক জানান, ‘প্রথমত, উপন্যাসটির একশো বছর। সেই সঙ্গে প্রবল প্রতাপশালী শাসকের বিরুদ্ধে সাহসী, শক্তিশালী লেখনী। সেটা প্রকাশিত হওয়া, নিষিদ্ধ হওয়া। তা নিয়ে নানা জলঘোলা— এই পুরো ঐতিহাসিক ঘটনাবলি রয়েছে বলেই এই উপন্যাসকে বেছে নিয়েছি।’ চার বছরের অধ্যবসায় ক্যামেরাবন্দি হতে চলেছে নতুন বছরের গোড়াতেই। প্রযোজনায় নন্দী মুভিজ। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন মিমি। তিনি ছাড়াও সৃজিতের আসন্ন ছবিতে কাজ করছেন আবীর চট্টোপাধ্যায়, টোটা রায়চৌধুরী, কাঞ্চন মল্লিক। ছোটপর্দার ‘ফুলকি’ দিব্যাণী মণ্ডলের ডেবিউ হচ্ছে এই ছবির হাত ধরে। ছবির সুরকার সৃজিত নিজেই। রবীন্দ্রসংগীতের সঙ্গে ছবিতে শ্রীজাতের লেখা গানও থাকছে।