


নয়াদিল্লি: রাজ্যসভার নির্বাচনে মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন খারিজ নিয়ে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। তেলেঙ্গানায় ঝুলে থাকা একটি মামলার উল্লেখ হলফনামায় করেননি মীনাক্ষী—এই অভিযোগে তাঁর মনোনয়ন খারিজ করে দিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার। যদিও কংগ্রেসের অভিযোগ, অন্যায্যভাবে এই প্রার্থী পদ বাতিল করা হয়েছে। শুধু ‘ভোট চুরি’ নয়, এবার ‘সিট চুরি’ও শুরু করেছে বিজেপি। ‘গণতন্ত্রকে হত্যা’র প্রতিবাদ জানাতে বুধবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে যায় কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল। তাদের অভিযোগ, রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশ খুবই গুরুতর। সেই নির্দেশ অবিলম্বে খারিজ হওয়া উচিত। যদিও এই ইস্যুতে এদিন পালটা বোমা ফাটিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের প্রবীণ বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়। সাংবাদিকদের কাছে তাঁর দাবি, ‘কংগ্রেসের ঘরেই বিভীষণ রয়েছে। নাহলে কংগ্রেস শাসিত তেলেঙ্গানা থেকে নথি আমাদের হাতে এল কীভাবে?’ অর্থাৎ, সরষের মধ্যেই ‘ভূত’ থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মনোনয়ন বাতিলের প্রতিবাদে এদিন নির্বাচন কমিশনে যান কে সি বেণুগোপাল, জয়রাম রমেশ, অভিষেক সিংভি, রণদীপ সুরজেওয়ালা, ভুপেশ বাঘেল ও দীপা দাশমুন্সির মতো প্রবীণ কংগ্রেস নেতৃত্ব। সেই দলে মীনাক্ষী নটরাজন নিজেও ছিলেন। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের বিনাশ চলছে। তবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর এখনও আমাদের আস্থা অটুট।’ অভিষেক সিংভি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নিজের জনপ্রতিনিধি আইনেই ৩৩ এ নামে একটি ধারা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যেসব অপরাধে দুই বছরের বেশি সাজা হতে পারে, শুধুমাত্র সেই মামলাগুলির উল্লেখ করতে হবে। তার থেকেও বড়ো কথা, যেসব মামলায় চার্জ গঠন হয়ে গিয়েছে, শুধু সেগুলির কথা উল্লেখ করা যায়। আইনের নবিশ পড়ুয়াও জানেন, ব্যক্তিগত স্তরে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন হতে পারে। যতক্ষণ না কোনো ম্যাজিস্ট্রেট তাকে মান্যতা দিচ্ছেন, সেটি গুরুত্বহীন। মীনাক্ষীর ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।’
নটরাজনের মনোনয়ন বাতিল নিয়ে চাপানউতোরের মধ্যেই এদিন ভোপালে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যে নথি পেয়েছি (নটরাজনের নামে মামলা সংক্রান্ত) তা কে দিল? কংগ্রেসের কী হাল আপনারা তা বুঝতেই পারছেন। আসল কথা হল, কংগ্রেস শাসিত তেলেঙ্গানা থেকে আমাদের হাতে নথি চলে আসছে। নিশ্চয় কংগ্রেসেরই কেউ আমাদের তথ্য দিয়েছে।’
তবে শুধু মধ্যপ্রদেশ নয়, গুজরাতেও ধাক্কা খেতে হচ্ছে কংগ্রেসকে। কারণ, হাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যা নেই বুঝে গুজরাতের রাজ্যসভার চতুর্থ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে হাত শিবির। ফলে চারটি আসনই বিজেপির ঝুলিতে যাচ্ছে। গত ৬৬ বছরের মধ্যে এই প্রথম গুজরাত থেকে রাজ্যসভায় কংগ্রেসের কোনো সাংসদ থাকবে না। আর এই ধাক্কার মধ্যেই ঝাড়খণ্ডে বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানির প্রার্থীপদ বাতিলের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস। নাথওয়ানি মিথ্যা ও অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন, এই অভিযোগে ঝাড়খণ্ড বিধানসভা চত্বরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে হাত শিবির।