


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: জেলার অন্যতম জনপ্রিয় বিধায়ক তিনি। সবসময় মোবাইল বাজতেই থাকে। চেনা, অচেনা বহু নম্বর থেকেই তাঁর কাছে ফোন আসে। অনেকে অ্যাপের মাধ্যমেও কল করেন। সব ফোনই তিনি ধরেন। কয়েকদিন আগে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে আসা ভিডিও কল ধরতেই চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড় হয় তাঁর। মোবাইলের স্ক্রিনে মহিলার নগ্ন ভিডিও ভেসে আসছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তৎক্ষণাৎ তিনি ফোন কেটে দেন। চারদিকে ষড়যন্ত্রের জাল ছড়ানো হচ্ছে। ফাঁসানোর জন্যই এই ফোন করা হয়েছিল। তাই সময় নষ্ট না করে তিনি বর্ধমান সাইবার থানার দ্বারস্থ হন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজস্থানের ভরতপুর থেকে ওই কল এসেছিল। টাওয়ার লোকেশন ধরে এমনটাই জানতে পেরেছে পুলিশ। দুষ্কৃতীদের খোঁজে পুলিশ অভিযান শুরু করে দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর ধরেই রাজস্থানের সাইবার অপরাধীরা সেক্সটরশনের জাল বিছিয়েছে। তারা রাতের দিকে মোবাইলে ভিডিও কল করে নগ্ন ভিডিও দেখাতে থাকে। ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে প্রতারকরা মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে আসা দু’দিকের ভিডিও রেকর্ডিং করে। তারপর শুরু হয় ব্ল্যাকমেল পর্ব। দাবিমতো টাকা না দিলে ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে। অনেকে মান-সম্মানের ভয়ে দাবিমতো টাকা অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেয়। ভিডিও কল চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতারকরা রেকর্ডিং করতে থাকে। এপারে থাকা ব্যক্তির মুখমণ্ডল এবং মহিলার নগ্ন ছবি এক ফ্রেমে এনে তারা ভয় দেখাতে শুরু করে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ভিডিও কলে প্রতারকরা ‘লাইভ’ ভিডিও দেখায় না। তারা ওপার থেকে পর্ণ ভিডিওর ক্লিপস চালিয়ে দেয়। অনেকে কোনও কিছু না বুঝে দীর্ঘক্ষণ ধরে সেই ভিডিও দেখতে থাকে। তারাই সমস্যায় পড়ে। প্রতারকদের হুমকিতে কেউ ঘাবড়ে গেলেই অ্যাকাউন্ট সাফ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে অবশ্য বিধায়ক প্রতারকদের ততটা সময় দেননি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ফোন কেটে দেন। প্রতারকদের মোবাইল নম্বর দিয়েই সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ করা হয়।
বর্ধমান মহকুমার বাসিন্দা ওই বিধায়ক বলেন, প্রতিদিন আমার কাছে অচেনা নম্বর থেকে বহু ফোন আসে। বেশিরভাগ মানুষ কোনও না কোনও প্রয়োজনে ফোন করেন। কিন্তু এভাবে কেউ নোংরামি করতে পারে, ভাবতে পারিনি। ভিডিও কল রিসিভ করার সঙ্গে সঙ্গেই অশ্লীল ভিডিও দেখানো শুরু হয়ে যায়। সাইবার থানায় অভিযোগ হওয়ার পরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, রাজস্থানের এক ব্যক্তির মোবাইল নম্বর থেকে ফোন এসেছিল। অভিযুক্তকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বর্ধমান রেঞ্জের ডিআইজির ছবি ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খোলার অভিযোগে রাজস্থান থেকে এক প্রতারককে বর্ধমান জেলা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তবে, এই গ্যাংটি সেক্সটরশনের সঙ্গে যুক্ত নয় বলে পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে। এরাজ্যের অনেকেই রাজস্থানের ভরতপুরের সাইবার প্রতারকদের শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন পেশার লোকজন তাদের দাবিমতো টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও বিধায়ক তাদের ফাঁদে পা দেননি। উল্টে তিনিই প্রতারকদের বিপাকে ফেলে দিয়েছেন।