


বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ২০১২ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পিজি হাসপাতালে চালু করেন ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান। তারপর থেকে রাজ্যজুড়ে খুলেছে ১১৭টি এমন ওষুধের দোকান। ২০০৮ সালে চালু হয় জনঔষধি। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রকল্পটি নতুন করে চালু করেন। নাম হয় প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি পরিযোজনা বা পিএমবিজেপি। এখনও পর্যন্ত দেশজুড়ে ১৬ হাজার জনঔষধি চালু হয়েছে।
আজ, ২১ জুন শহরে বিশ্ব যোগ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাঁর হাত ধরেই প্রথম পর্যায়ে জনঔষধি খুলতে পারে রাজ্যের ৬টি সরকারি হাসপাতালে। পিজি, আর জি কর, চিত্তরঞ্জন সেবাসদন, বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল, বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল ও কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে। ২৪০০ ওষুধ থাকবে এখানে। দুই প্রকল্পের ওষুধের তালিকা ও দামের লিস্ট চত্বরে টাঙিয়ে দেওয়ারও পরিকল্পনা আছে। যেসব সংস্থা বর্তমানে ন্যায্য মূল্যের দোকান চালাচ্ছে, তারাই চালাবে জনঔষধি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ৬ জায়গাতেই ন্যায্য মূল্যের দোকান ও মোদির জনঔষধি থাকছে একই চত্বরে। ন্যায্য মূল্যের দোকানের কমপক্ষে ১২০ বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ থাকছে জনঔষধির জন্য। তবে মাঝখানে থাকছে পার্টিশান! স্বাস্থ্যকর্মী-আধিকারিকরা কৌতুকের ছলে বলছেন, ‘বিদায় নিয়েছেন মমতা। কিন্তু তাঁর প্রকল্প জায়গা করে নিয়েছে তাঁর রাজনৈতিক শত্রু মোদির প্রকল্পের পাশেই!’
১৬ জুন প্রকাশিত সরকারি আদেশনামায় স্পষ্ট ভাষায় লেখা হয়েছে, ‘দি অথরিটি হ্যাজ ডিসাইডেড টু ওপেন প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি কেন্দ্র (পিএমবিজেকে) ইন ফেজড ম্যানার অ্যালংসাইড ফেয়ার প্রাইস মেডিসিন শপ’। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ৬ জায়গার জন্য পৃথক ড্রাগ লাইসেন্স, পৃথক চুক্তিপত্র তৈরি, সবটাই চলল তারপর। খোদ মোদি যখন আসছেন, এত সামান্য সংখ্যক জনঔষধি চালু হচ্ছে কেন? অভ্যন্তরীণ বৈঠকে স্বাস্থ্যকর্তাদের প্রশ্ন করেছিলেন ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম। অফিসাররা জানান, এর থেকে দ্রুত কাজ করা অসম্ভব। সিদ্ধান্ত হয়েছে ৮৮টি জনঔষধি চালু হবে। আপাতত দুটি প্রকল্প একসঙ্গে চললেও, অদূর ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে বন্ধ হবে ন্যায্য মূল্যের দোকান। চালু থাকবে শুধু মোদির প্রকল্পই।