


ইস্ট বেঙ্গল-০ : মোহন বাগান-১
(সাহাল)
অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: গত দেড় মাস বিশ্বকাপের টানটান ফুটবলে মজেছিল বাঙালি। ব্রাজিল, আর্জেন্তিনা, ফ্রান্স, জার্মানি নিয়ে গলা ফাটিয়ে শেষে স্পেনের জয়জয়কার। তিকি-তাকা থেকে বাঙালির ফোকাস এবার দুই প্রধানে। ডুরান্ড কাপের প্রথম ডার্বিতে জয়জয়কার মোহন বাগানের। ঐতিহ্যের লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্ট বেঙ্গলকে ১-০ ব্যবধানে বশ মানিয়ে মরশুম শুরু করল পানাজিওটিস-ব্রিগেড। একমাত্র গোলে নায়ক সাহাল আবদুল সামাদ। এই প্রথম ডার্বি হারের স্বাদ পেতে হল স্প্যানিশ কোচ হাবাসকে।
কলকাতা ডার্বি মানেই আবেগের বিস্ফোরণের ফানুস ওড়ানো। শহর দু’দলে ভাগ হয়ে যাওয়া। গ্যালারিও ঠাসা। কিন্তু, মরশুমের প্রথম ডার্বি কি মন ভরাতে পারল? এককথায় উত্তর, না! সামান্য প্রস্তুতি সেরে খেলা এই মেগা ম্যাচে দুই দলের ফিটনেসের ঘাটতি স্পষ্ট। দুই দলই ভরসা রেখেছিল ভারতীয় স্কোয়াডের ওপর। চেষ্টা করেও তাঁরা মন ভরাতে ব্যর্থ।
ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগে সাংবাদিক সম্মেলনে মোহন বাগান কোচ পানোস আক্রমণাত্মক ফুটবলের অঙ্গীকার করেছিলেন। ম্যাচের শুরু থেকেই সেই চেষ্টা ধরা পড়ল আপুইয়াদের খেলায়। দুই প্রান্তে ডানা মেলে একাধিকবার লাল-হলুদ বক্সে থাবা বসিয়েছিল মোহন বাগান। মনবীরের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কিয়ানের থেকে পাওয়া বল বক্সে সোল টার্ন করেও প্রভসুখনের হাতেই মারলেন সাহাল। ২৪ মিনিটে আবারও এই কেরালাইটের শট বক্সে জিকসনের হাতে লাগলে পেনাল্টির আবেদন ওঠে। কিন্তু, রেফারি নাকচ করে দেন। পক্ষান্তরে, আনোয়ার ও ব্লকার জিকসন রক্ষণে ভরসা দিলেন ইস্ট বেঙ্গলকে। তবে মাঝমাঠে বল ধরে খেলা প্লেয়ারের অভাব প্রকট। নবাগত রোহিত কুমার বড্ড অপরিণত। অবশ্য লাল-হলুদ জার্সিতে অভিষেক হওয়া রোহিত দানুর চেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মতো। দুই প্রান্তে বিপিন ও তাঁর জন্য বিক্ষিপ্ত কয়েকটি আক্রমণ গড়ে ওঠে। কিন্তু এই ইস্ট বেঙ্গলে গোল করার লোকের বড়ো অভাব। গত মরশুমে পর্যাপ্ত ম্যাচ টাইম না পেয়ে ডেভিডের আত্মবিশ্বাস একেবারে তলানিতে।
লাল-হলুদের রক্ষণ ভাঙল ৫৩ মিনিটে। লিস্টনের থেকে পাওয়া বল নিয়ে ডান প্রান্ত ধরে বক্সে ঢুকে মাইনাস করেন কিয়ান। মনবীরের গায়ে ছিলেন আনোয়ার। তাই পাঞ্জাবি স্ট্রাইকার তাতে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ। পিছন থেকে অরক্ষিত অবস্থায় এসে লক্ষ্যভেদ সাহালের (১-০)। তবে পিছিয়ে পড়তে একের পর এক অস্ত্র বের করেন লাল-হলুদ কোচ হাবাস। রশিদ, বিষ্ণু ও রামিরেজ নামতেই মশাল বাহিনীর মাঝমাঠ সচল হয়। এই পর্বে বিষ্ণুর শট রুখে দেন বিশাল। জিকসনের সিটারও রক্ষা করেন সবুজ-মেরুন গোলরক্ষক। তবে ফিরতি বল থেকে পাওয়া দিনের সহজ সুযোগ নষ্ট করলেন রশিদ। মোহন বাগান রক্ষণ কাঁপতেই আলবার্তো ও সায়ন ব্যানার্জি মাঠে নামিয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করেন পানোস। শেষলগ্নে রশিদের প্রয়াসও দুরন্ত তৎপরতায় ঠেকিয়ে সবুজ-মেরুনের দুর্গরক্ষা করেন ‘বাজপাখি’ বিশাল। অর্থাত্, কলকাতার রং সবুজ-মেরুন।
ইস্ট বেঙ্গল: প্রভসুখন, সন্দীপ, আনোয়ার, লালচুংনুঙ্গা, জয়, জিকসন, এডমুন্ড, রোহিত দানু (বিষ্ণু), রোহিত কুমার (রশিদ), বিপিন (জেসিন) ও ডেভিড (রামিরেজ)।
মোহন বাগান: বিশাল, শুভাশিস (আলবার্তো), রাহুল, মেহতাব, অভিষেক, লিস্টন (সায়ন), অনিরুদ্ধ, আপুইয়া, সাহাল (দীপক), কিয়ান (ড্রাজিচ) ও মনবীর (সুহেল)।