


জামশেদপুর- ১ : মোহন বাগান- ১
(ঋত্বিক) (লিস্টন)
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এক গোলে লিড কখনোই নিরাপদ নয়। কোচিং সেন্টারেও খুদে শিক্ষার্থীর মগজে সেই ক্যাপসুল ভরে দেওয়া হয়। অথচ লোবেরার কোটি টাকার ডিফেন্ডাররা সতর্ক হলেন না। তার ফল? সংযোজিত সময়ে গোল হজম করে ফের হোঁচট খেল মোহন বাগান। ইনজুরি টাইম চলছে। দল এগিয়ে। অথচ রক্ষণে ঝাঁপ ফেলার বদলে লেকে সান্ধ্যভ্রমণের ঢংয়ে ঘুরে বেড়ালেন অভিষেকরা। আপফ্রন্টও সমান দোষী। বড়লোকের বাউন্ডুলে ছেলের মতো মিস দিমিত্রির। তাই দাম পেল না লিস্টনের কোটি টাকার লক্ষ্যভেদ। সবচেয়ে বড় কথা, জামশেদপুরের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর চ্যাম্পিয়নশিপ ক্রমশ কঠিন হচ্ছে। ৭ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট লোবেরা ব্রিগেডের। টানা তিন ম্যাচে জয়ের দেখা নেই। বরং এক ম্যাচ কম খেলে মুম্বইয়ের পয়েন্টও ১৪।
শনিবার প্রথম এগারোয় ফাইন টিউন করেছিলেন লোবেরা। জামশেদপুরের বিরুদ্ধে দিমিত্রি ও কামিংসকে বেঞ্চে রেখে রবসনকে ফার্স্ট ইলেভেনে খেলালেন স্প্যানিশ কোচ। দুই প্রান্তে বহুদিন পর লিস্টন ও মনবীর জুটি ডানা মেললেন। দীর্ঘকায় এজে ও মেসি বৌলির কথা ভেবেই হয়তো রক্ষণে আলবার্তো-আলড্রেড জুটিকে ফেরানো হয়। ম্যাচের ১২ মিনিটে ম্যাকার চকিত শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। চার মিনিট পরেই লিস্টন ম্যাজিক। বিপক্ষ বক্সের প্রায় ২২ গজ বাইরে শুভাশিস পাস বাড়ান গোয়ানিজকে। মুহূর্তে ইনস্টেপের বেড় দিয়ে কামান দাগলেন লিস্টন। ডিপ করে বল আছড়ে পড়ে জালে। বল কুড়িয়ে আনা ছাড়া আলবিনো গোমসের কিছু করার ছিল না (১-০)। আইএসএলের ইতিহাসে সেরা গোল কোনটা? এদিনের পর উপরের দিকে জ্বলজ্বল করবে লিস্টনের নাম। ৩৫ মিনিটে রবসনের মাইনাসে শরীর ছুড়েও গোল করতে পারেননি ম্যাকা।
ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল দ্বিতীয়ার্ধেও। ম্যাকলারেনের পাস থেকে জাল কাঁপানোর পরিস্থিতি তৈরি হলেও মনবীর জায়গাতেই পৌঁছাতে ব্যর্থ। জামশেদপুর মাঝমাঠের প্রধান অস্ত্র মাধি তালাল। চোটের কারণে তিনি ছিলেন না। অনুপস্থিতি বোঝা গেল বারবার। কিন্তু ফায়দা তুলতে ব্যর্থ মোহন বাগান। লোবেরার আস্তিনে প্লে-মেকার কোথায়? ম্যাচ গড়ানোর সঙ্গেই কোমরে হাত রবসনের। ৮৫ মিনিটে পরিবর্ত পেত্রাতোস ছ’গজ দূর থেকেও জাল কাঁপাতে ব্যর্থ। শেষ লগ্নে দীর্ঘকায় স্টিফেন এজেকে স্ট্রাইকার করে দিলেন আওয়েন কোয়েল। সংযোজিত সময়ে মেসি বৌলির সেন্টার বিনা বাধায় হেড করে জালে জড়ালেন ঋত্বিক দাস (১-১)। টর্চ জ্বেলেও অভিষেকদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। ম্যাচের পর কোচ লোবেরার সাফাই, ‘মনঃসংযোগের অভাবেই গোল খেতে হয়েছে। তবে চ্যাম্পিয়নশিপ অনেক দূর। আমরা ঘুরে দাঁড়াবই।’ এদিকে, ম্যাচের মাঝেই হঠাৎ ধোঁয়ায় ঢাকে মাঠ। হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে নিরাপত্তা এড়িয়ে স্মোক বোম প্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই। পাশাপাশি, ম্যাচের পর মাথা ফাটল এক মোহন বাগান অনুরাগীর। জামশেদপুর সমর্থকদের বিরুদ্ধে ইট ছোড়ার অভিযোগ উঠছে।
অপর ম্যাচে এফসি গোয়াকে ২-০ গোলে হারাল বেঙ্গালুরু এফসি। দুই গোলদাতা সুনীল ছেত্রী ও নাঙ্গয়াল ভুটিয়া। এটি গোয়ার প্রথম হার।
মোহন বাগান: বিশাল, অভিষেক, আলড্রেড, আলবার্তো, শুভাশিস, আপুইয়া, অনিরুদ্ধ, লিস্টন (টাংরি), মনবীর, রবসন (দিমি) ও ম্যাকলারেন (কামিংস)।