


মোহন বাগান-১ : চেন্নাইয়ান এফসি-০
(মনবীর)
অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: উৎসবের আকাশে ঝলমলে কোজাগরী চাঁদ। কিন্তু মোহন বাগানের খেলায় সেই ঔজ্জ্বল্য নেই। মনবীর সিংয়ের একমাত্র গোলে সোমবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে চেন্নাইয়ান এফসি’কে হারালেও দলের খেলায় খুশি নন সদস্য-সমর্থকরা। ম্যাচ শেষে অনেককেই বলতে শোনা গেল, মিষ্টির হাঁড়ি হাতে ধরিয়ে কোচ পানোস, স্ট্রাইকার লি আরউইন এবং মিডিও দীপক টাংরিকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। এরকম খেললে খেতাবি দৌড়ে থাকা মুশকিল পালতোলা নৌকার। আপাতত ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট পেয়ে পঞ্চম স্থানে পানোসের দল।
চোটের কারণে ম্যাকলারেন, মিগুয়েল ছিলেন না। জ্বরে কাবু আপুইয়া। এমন পরিস্থিতিতে ৪-১-৪-১ ফর্মেশনে ডিফেন্সিভ স্ক্রিনে এদিন দীপক টাংরিকে ব্যবহার করেছিলেন কোচ পানোস। দুই প্রান্তে মনবীর ও ছাংতে শুরু করলেও বারবার ড্র্যাজিচের সঙ্গে জায়গা বদল করলেন তাঁরা। কিন্তু দলে যে প্লে-মেকারের অভাব স্পষ্ট। মিগুয়েলের জায়গা ভরাট করতে ব্যর্থ জেলকোভিচ। ফলে খেলা তৈরি হল না। তবু সুযোগ পেয়েছিল মোহন বাগান। ১১ মিনিটে সেটপিস থেকে ছাংতের সেন্টার অরক্ষিত অবস্থায় পেয়েও জাল কাঁপাতে ব্যর্থ আলবার্তো। এদিন আরও একবার তিনকাঠির নীচে অনবদ্য ছিলেন বিশাল। তাঁর বিশ্বস্ত হাতেই বারবার রক্ষা পেল মোহন বাগান। ৩৮ মিনিটে সহজ সুযোগ হাতছাড়া করলেন মনবীর। জেলকোভিচের থ্রু পাস ধরে জোরালো শট নিয়েছিলেন আরউইন। চেন্নাইয়ান গোলরক্ষক তা ঠেকালেও ফিরতি বলে হেড করতে ব্যর্থ পাঞ্জাব উইঙ্গার। এতটুকু ছাড়া প্রথমার্ধে তারকাখচিত সবুজ-মেরুন ব্রিগেড আক্রমণহীন। বরং সীমিত শক্তি নিয়ে মোহন বাগানকে বেগ দিল চেন্নাইয়ান। মাধি তালালের পাস থেকে সতীর্থরা হেলায় সুযোগ নষ্ট না করলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতেই পারত।
বিরতির পর ছাংতের বদলে সাহালকে মাঠে নামান গ্রিক কোচ। কিছুক্ষণ পরে অনিরুদ্ধ থাপাকেও ব্যবহার করেন তিনি। তা সত্ত্বেও মোহন বাগানের পারফরম্যান্সে তেমন বদল আসেনি। মিসপাস ও ব্যাকপাসেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখলেন ড্র্যাজিচ-মেহতাবরা। আর আলাদা করে বলতে হবে লি আরউইনের কথা। গোলার মতো শট নেই। বিপক্ষ বক্সে নিজেকে ফাঁকা রাখার কৌশলও অজানা। কেন যে তাঁকে নেওয়া হয়েছে? এই পর্বে নিকোলার বাঁ পায়ের শট বিশালের হাত ছুঁয়ে ক্রসবারে আছড়ে পড়ে। তবে শেষ পর্বে সবুজ-মেরুন সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটায় লিস্টন-মনবীর জুটি। ৮৫ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে সেন্টার তোলেন গোয়ানিজ উইঙ্গার। মার্কার মহম্মদ সাহিফকে টপকে চেস্ট ট্র্যাপে তা জালে জড়ান মনবীর (১-০)। এদিকে, আইএফএ শিল্ড জয় উপলক্ষ্যে ২৮ অক্টোবর ক্লাব তাঁবুতে পতাকা উত্তোলন করবেন ক্লাব কর্তারা।
মোহন বাগান: বিশাল, রাহুল (শুভাশিস), অভিষেক, আলবার্তো, মেহতাব, ড্রাজিচ (লিস্টন), জেলকোভিচ (অনিরুদ্ধ), দীপক (অভিষেক সূর্যবংশী), ছাংতে (সাহাল), মনবীর, আরউইন।