


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ছেলেকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া নিয়ে সালিশি সভায় প্রৌঢ়কে খুনের অভিযোগ উঠল। বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রাম থানার ভেকুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩৭নম্বর জেলেমারা বুথে ওই ঘটনায় দিনভর ছিল উত্তেজনা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মৃতের নাম শক্তিপদ দাস ওরফে ফড়িং(৫৭)। বেধড়ক মারধরের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। পরে এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য তাঁর মুখে বিষ ঢেলে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ শাসকদলের। এনিয়ে তৃণমূল তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজেও সরব হয়। অভিযোগ করা হয়, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন কলকাতায় তখন নন্দীগ্রামে বিজেপির মদতে খুন হলেন এক তৃণমূল কর্মী। এদিন নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের মনোনয়ন জমা ছিল। হলদিয়ায় নমিনেশন জমা দেওয়ার সময়ও মাইকে নন্দীগ্রামের ওই ঘটনা নিয়ে নেতৃত্ব বক্তব্য রাখেন। জানা গিয়েছে, শক্তিপদ সক্রিয় তৃণমূল কর্মী। তাঁর ছেলে বিজেপি সমর্থক। প্রায় দু’বছর ধরে শক্তিপদর সঙ্গে ছেলের পারিবারিক সমস্যা চলছে। প্রায় দু’মাস মেয়ের বাড়িতে থাকার পর বুধবার ওই প্রৌঢ় জেলেমারা গ্রামে নিজের বাড়িতে ফেরেন। বৃহস্পতিবার ছেলেকে সম্পত্তি দেওয়া নিয়ে সালিশি সভা বসেছিল বলে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা তথা জেলা পরিষদ সদস্যা নন্দিনী গোলের স্বামী অরূপ গোল জানিয়েছেন। সেই সভায় ওই তৃণমূল কর্মীকে মারধর করার পর মারা যান বলে অভিযোগ। ঘটনার খবর নন্দীগ্রাম থানায় যাওয়ার পর পুলিশ বাড়িতে পৌঁছায়। মৃতের ছেলে ও স্ত্রী থানায় যান। সেখানে তৃণমূল ও বিজেপির লোকজন হাজির হয়। বিকালের পর পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা নন্দীগ্রাম থানায় যান। ভেকুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন জেলেমারা বুথ রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনাপ্রবণ। ২০২১সালের ভোটের সময় ওই গ্রামে বেশ কয়েকজনের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ঘরছাড়া ছিলেন একাধিক তৃণমূল কর্মী। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল নন্দীগ্রামে যাওয়ার পর ঘরছাড়া তৃণমূল কর্মীরা ঘরে ফিরেছিলেন। নিহত শক্তিপদ দাস সক্রিয় তৃণমূল কর্মী। ছেলের সঙ্গে বাবার সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলায় আদালতেও মামলা চলছে। তারমধ্যেই বৃহস্পতিবার সালিশি সভা বসেছিল বলে খবর। স্থানীয় বিজেপির মাতব্বররা সেখানে হাজির ছিলেন। তারপর মারধর করার ফলে মৃত্যু হয় বলে শাসক দলের দাবি।
এদিন সকাল ১০টা নাগাদ শক্তিপদকে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন মুখ থেকে বিষের গন্ধ বেরচ্ছিল। বিষ খেয়ে মারা গিয়েছেন বলে মৃতের ছেলের দাবি। যদিও শাসক দলের পক্ষ থেকে সেই দাবি অস্বীকার করে খুনের অভিযোগ তোলা হয়। তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজেও এনিয়ে পোস্ট করা হয়। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, এটি পারিবারিক বিবাদের কারণে আত্মহত্যার ঘটনা। শক্তিপদর সঙ্গে বাড়ির অন্য সদস্যদের সংঘাত চলছিল। মনের দুঃখের তিনি সকালে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হন। সেই ঘটনার মধ্যে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই। অথচ, তৃণমূল কংগ্রেস এটিকে খুন বলে দাবি করে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চাইছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অরূপ গোল বলেন, শক্তিপদ দাস সক্রিয় তৃণমূল কর্মী। যদিও তাঁর ছেলে বিজেপি করেন। ছেলে বাবার জীবিত অবস্থাতেই সম্পত্তির ভাগ দাবি করে। শক্তিপদ তা দিতে অস্বীকার করেন। এনিয়ে কোর্টে মামলাও হয়। প্রায় দু’মাস মেয়ের বাড়িতে থাকার পর শক্তিপদ বুধবার বাড়ি ফিরে আসেন। বৃহস্পতিবার সালিশি সভা বসে। সেখানে মারধর করার কারণে মৃত্যু হয়। তারপর ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য বিষ ঢেলে দেওয়া হয়।