


নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নথি যাচাইয়ের পরেও নদীয়া জেলার কয়েক লক্ষ ভোটারের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলেছিলেন রোল অবজার্ভার এবং মাইক্রো অবজার্ভার। সংখ্যাটা তিন লক্ষের বেশি। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরাই সেই নথি যাচাই করছিলেন এতদিন। কিন্তু তাতে দেখা যায়, নদীয়া দক্ষিণের বিধানসভাগুলোতেই নথি সমস্যার জেরে নিষ্পত্তি না হওয়া ভোটারের সংখ্যা বেশি। শুধুমাত্র চাকদহ বিধানসভাতেই সংখ্যাটা ২১ হাজারের বেশি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, নদীয়া উত্তরের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিধানসভাগুলোতেই এই ধরনের ভোটারের সংখ্যা ছিল অপেক্ষাকৃত বেশি। যাদের বৈধতা নিয়ে অবজার্ভাররা সন্দেহ প্রকাশ করলেও তা পুনর্যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সবমিলিয়ে জেলাজুড়ে প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার ভোটারের নথি পুনর্যাচাই সময়মতো করে ওঠা সম্ভব হয়নি জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের পক্ষে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া উত্তরের করিমপুর বিধানসভায় প্রায় ১১ হাজার ভোটারের নথি পুনরায় যাচাইয়ের জন্য পাঠিয়েছিল অবজার্ভাররা। যার মধ্যে মাত্র ১৯৭৭ জনের নথি যাচাই বাকি আছে। তেহট্ট বিধানসভায় অবজেকশন আসা ১৩ হাজার ভোটারের মধ্যে, ৪ হাজার ভোটারের নথি যাচাই করা বাকি রয়েছে। পলাশীপাড়া বিধানসভায় ২০ হাজার ভোটারের ক্ষেত্রে আপত্তি জানিয়েছিলেন অবজার্ভাররা। কিন্তু তার মধ্যে ১৫ হাজার ভোটারের যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। নাকাশিপাড়া বিধানসভাতে প্রায় ৩৩ হাজার ভোটারের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিলেন অবজার্ভাররা। কিন্তু সেখানে এখনও ৮ হাজার ভোটারের নথি যাচাই করা বাকি রয়েছে। আবার কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভায় ২৬ হাজার ভোটারের বিরুদ্ধে অবজেকশন জানিয়েছিলেন অবজার্ভাররা। এই বিধানসভায় ১৮ হাজার ভোটারের অবজেকশন নিষ্পত্তি করা বাকি রয়েছে।
কিন্তু নদীয়া দক্ষিণের বিধানসভাগুলোতে অন্য ছবি। সেখানে কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভায় ১৯ হাজার ভোটারের মধ্যে ১৪ হাজার, শান্তিপুর বিধানসভায় ১৮ হাজার ভোটারের মধ্যে ১৫ হাজার, রানাঘাট উত্তর পশ্চিম বিধানসভায় ১৬ হাজার, রানাঘাট উত্তর পূর্ব বিধানসভায় ১৬ হাজার, রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভায় ১৫ হাজার ভোটারের নথি পুনরায় যাচাই করা বাকি রয়েছে। অর্থাৎ নদীয়া দক্ষিণের মতুয়াগড়ে নথি সমস্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যে কারণেই নির্বাচনী আধিকারিকদের পক্ষে যাচাই প্রক্রিয়া পুনরায় সম্পন্ন করে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। যার জন্যই নদীয়া উত্তরের বিধানসভাগুলির তুলনায় নদীয়া দক্ষিণের বিধানসভাগুলোতে নিষ্পত্তি না হওয়া ভোটারের সংখ্যা বেশি।
যদিও সেই তালিকায় কতজন লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি আর কতজন আনম্যাপড ভোটার রয়েছে যা স্পষ্ট নয়। তবে বিচারকদের কাছে এই সমস্ত নিষ্পত্তি না হওয়া ভোটারদের তালিকা আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, রাজ্যজুড়ে প্রায় ৫০ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাই করে বৈধতা বিচারের ভার এখন বিচারকদের কাঁধে। সৌজন্যে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দ্বন্দ্ব। নদীয়া জেলাতেই প্রায় আড়াই লক্ষের কাছাকাছি ভোটারের নথি যাচাই করবেন বিচারকরা।