


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ২০০৭সালে জমি আন্দোলনের পুরনো চারটি মামলায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করে শনিবার হলদিয়া এসিজেএম কোর্টে পেশ করল পুলিশ। সকাল ১০টাতেই চণ্ডীপুর থানার পুলিশ তাঁকে হলদিয়া কোর্টে পেশ করে। হাইকোর্টের আইনজীবীরা কংগ্রেস প্রার্থীর জামিনের পক্ষে সওয়াল করেন। উলটো দিকে, সরকারি আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেন। দু’পক্ষের সওয়াল জবাব শুনে বিচারক মিলনবাবুকে ১৪দিনের জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মোট চারটি কেসের মধ্যে হলদিয়া এসিজেএম তিনটি এবং কাঁথি এসিজেএম একটি কেসে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। কাঁথি আদালতের একটি কেসে আগামী সোমবার কংগ্রেস প্রার্থীকে সেখানকার কোর্টে পেশ করা হবে।
এদিন হলদিয়া আদালত চত্বরে উপস্থিত ছিলেন এআইসিসি সম্পাদক তথা রাজ্য কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক প্রকাশ যোশি, প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। দিনভর আদালতে এনিয়ে টান টান উত্তেজনা ছিল।
শুক্রবার বিকেল ৫টা ৪৫মিনিট নাগাদ চণ্ডীপুরের একটি হোটেলে হানা দিয়ে পুলিশ কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গাড়িতে তোলে। তারপর চোখে গামছা বেঁধে মন্দারমণিতে নিয়ে যায় বলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের অভিযোগ। মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য চাপ বাড়ানো হয়। শেষমেশ তাতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের সময় ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সামনের সারির নেতা ছিলেন মিলন। আন্দোলনকারীদের বেশিরভাগই তৃণমূল কিংবা বিজেপি করলেও মিলন কংগ্রেস করতেন। তিনি হলফনামায় ২০০৭সালে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলার কথা উল্লেখ করেছেন। তারমধ্যে নন্দীগ্রাম থানায় তিনটি এবং খেজুরি থানায় আরও একটি কেসে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল হলদিয়া ও কাঁথি কোর্ট। মামলার দিন আদালতে হাজির না হওয়ার কারণে আইন মেনেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, জমি আন্দোলনের অধিকাংশ নেতার বিরুদ্ধেই এধরনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। কিন্তু, উপ নির্বাচনের মুখে পাঁচ বছর আগে পরোয়ানা জারির ঘটনায় কংগ্রেস প্রার্থী গ্রেপ্তার হলেন। এনিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বিজেপিকেও আক্রমণ করেছে হাতশিবির। শনিবার আদালতে ১৪দিনের জেল হেপাজত নির্দেশের পর মিলনকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় আরও একপ্রস্থ নাটক হয়। আদালত চত্বর থেকে পুলিশের গাড়ির বদলে একটি প্রাইভেট গাড়িতে পিছনের দরজা দিয়ে কংগ্রেস প্রার্থীকে বের করে নিয়ে যায় পুলিশ। ওই ঘটনায় উপস্থিত কংগ্রেস নেতৃত্ব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, মিলনকে দিয়ে জোর করে নমিনেশন প্রত্যাহার করানো হতে পারে। এরপর তাঁরা দলবেঁধে এসডিও অফিসে রওনা দেন। শুভঙ্করবাবু বলেন, নন্দীগ্রাম উপ নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীকে ভয় পেয়েছে বিজেপি। তাই মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লড়াকু মিলনকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। ২০০৭সালে নন্দীগ্রামে যে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি তৈরি হয়েছিল তাতে শিশির অধিকারী, শুভেন্দু অধিকারীদের সঙ্গে সংবাদ মাধ্যমে নাম উঠে আসত মিলন প্রধান, সবুজ প্রধানদের। শুধুমাত্র কংগ্রেস করার জন্য মিলন গ্রেপ্তার হল।বিজেপি ভয় পেয়েছে বলে এই কাজ করেছে।
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, এটা পুলিশের বিষয়। অহেতুক এই ঘটনার মধ্যে বিজেপিকে টেনে আনার কোনো কারণ নেই।