


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সবেমাত্র শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্ত হয়েছেন তিনি। আর তার ঠিক পরেই পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডলের কাকার ছেলে তথা তাঁর অন্যতম ম্যানেজার নইমুদ্দিন মণ্ডলের ক্রাশারে আচমকা হানা দিল পুলিশ। শনিবার রাতে মহম্মদবাজারের তালবাঁধ পাথর শিল্পাঞ্চলের গাবারবাথান এলাকায় ওই ক্রাশার অফিসে অভিযান চালায় জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল। প্রশাসন সূত্রে খবর, অভিযানের সময় ক্রাশার অফিসের কর্মীদের দীর্ঘক্ষণ ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, জাল ডিসিআর চক্র এবং কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের মামলায় গত শুক্রবারই সিউড়ি জেলা জজ কোর্ট থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পান ৫৬ বছর বয়সি নইমুদ্দিন। টুলু কাণ্ডে তিনিই প্রথম জামিন পেয়েছিলেন। আদালতে তাঁর আইনজীবীদের জোরালো যুক্তি ছিল, নইমুদ্দিনের বিরুদ্ধে পুরনো কোনও অপরাধের রেকর্ড নেই এবং পুলিশ তাঁর কাছ থেকে কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি।
তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই মামলার তদন্তের গতিপ্রকৃতি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই সন্দেহ ছিল। নীচ তলার লোকেদের ধরে রাঘববোয়ালদের সুকৌশলে আড়াল করার চেষ্টা চলছে- এমন অভিযোগ তুলে বারবার সরব হয়েছেন বিরোধীরা। ঠিক সেই আবহেই প্রথম অভিযুক্ত হিসেবে নইমুদ্দিন জামিন পেয়ে যাওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ আরও জোরালো হয়। আর তাই এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, চারদিকে সমালোচনার ঝড় ওঠার পরেই কি মুখরক্ষা করতে আসরে নামল পুলিশ? নতুন করে কোনও তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করে নইমুদ্দিনকে ফের জেলে ভরতেই কি পুলিশের এই মরিয়া তল্লাশি?