


সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা; ইডেনে নাইটদের প্র্যাকটিস শুরুর কথা বিকেল পাঁচটায়। তা চারটের মধ্যেই নেটে হাজির সুনীল নারিন ও বরুণ চক্রবর্তী। ক্রমাগত বল করেই চললেন দু’জনে। বাকিরা তখনও টিম হোটেলে। বাড়তি তাগিদ একেই বলে!
থাকছে নির্লজ্জ ফাঁকিবাজির নিদর্শনও। আন্দ্রে রাসেল তাতে ‘ডক্টরেট’ করার পথে। শনিবার দুলকি চালে বিশ্রামের মেজাজে ছিলেন। ম্যাচের আগের দিন তো এলেনই না। অবশ্য নাইট অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে তো বটেই, হর্ষিত রানা, বৈভব অরোরা, অ্যানরিখ নর্তজেরাও রবিবার বন্দী থাকলেন হোটেলে। এই প্রচণ্ড গরমে পেসারদের বিশ্রামের অবশ্য যুক্তি রয়েছে। কিন্তু ক্যারিবিয়ান মহাতারকা যে ম্যাচেও বিশেষ পরিশ্রম করেননি। ব্যাটে খেলেছেন মোটে ৩১ ডেলিভারি। বল করেছেন ৩৯টা। নেটে ঘাম ঝরানোর তো প্রশ্নই নেই। তাঁর আবার কীসের বিশ্রাম!
প্লে-অফের সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে সোমবার গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে জেতা জরুরি কলকাতার। তা উপলব্ধি করেই পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে জঘন্য পরাজয়ের হতাশা ঝেড়ে ফেলার মরিয়া চেষ্টা করছে কেকেআর। নারিন, বরুণ তো বটেই, সঙ্কল্পবদ্ধ দেখাল কুইন্টন ডি’কক, মঈন আলি, রভম্যান পাওয়ালদের। ক্লাবহাউসের আপার টিয়ার থেকে ভেসে আসা তুমুল শঙ্খধ্বনিও চেষ্টা করল উদ্দীপ্ত করার। কিন্তু সমর্থকরা বাইরে থেকে কী করবেন, যদি কারও ভিতর থেকেই তা না আসে!
এরমধ্যেই রিঙ্কু সিং ও বেঙ্কটেশ আয়ারের চোট নিয়ে হালকা দুশ্চিন্তা ছড়িয়ে পড়ল। থ্রো-ডাউনের সময় পাঁজরে লাগল রিঙ্কুর। বেঙ্কটেশও চোট পেলেন পায়ে। সঙ্গী হল আইস প্যাক। শনিবার শেষবেলায় হাতে লেগেছিল বৈভবেরও। তবে উদ্বেগ দূরে সরিয়ে কিছুক্ষণ পরে ফুটবল খেলতে দেখা গেল বেঙ্কটেশকে। রিঙ্কুও ব্যাট করলেন। জানা গেল বৈভবও আশ্বস্ত করেছেন টিম ম্যানেজমেন্টকে। অর্থাৎ, টেনশনের কিছু নেই।
তবে দুই প্রাক্তন নাইট নিশ্চিতভাবেই রতের ঘুম কাড়বেন নাইট শিবিরের। এদের একজন গুজরাত ক্যাপ্টেন শুভমান গিল, অন্যজন অবশ্যই ১২ উইকেট নেওয়া পার্পল ক্যাপের মালিক প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। দু’জনেরই ইডেনের বাইশ গজ খুব ভালো করে চেনা। আরও একজন প্রাক্তন নাইট— ইশান্ত শর্মাও রয়েছেন উল্টোদিকে। ২০০৮ সালের উদ্বোধনী আইপিএলে নাইটদের কালো রঙের জার্সি গায়ে চাপিয়েছিলেন তিনি। রাতের ইডেনে লেগস্পিনার রশিদ খানও হাত ঘুরিয়ে গেলেন। কে বলবে, মোতেরায় শনিবারই ম্যাচ খেলেছেন? দায়বদ্ধতা কাকে বলে, রাসেলরা যে কবে শিখবেন!