


সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক (এসটি) পদে নিয়োগকে ঘিরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছে জাতীয় তফসিলি জনজাতি কমিশন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে তারা নোটিস পাঠিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে সবিস্তার রিপোর্ট তলব করেছে।
অধ্যাপক পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তুষার পটুয়া। তিনি গত ১৩ জানুয়ারি জাতীয় তফসিলি জনজাতি কমিশনের কাছে ই-মেলে অভিযোগ জানান। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং কেন্দ্রের উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রকেও ই-মেল মারফত বিষয়টি অবগত করান।
তুষারবাবুর অভিযোগ, বাংলা বিভাগে অধ্যাপক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়ম হয়েছে। যোগ্য প্রার্থীদের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ায় বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি সংরক্ষিত এসটি পদ সাধারণ শ্রেণিতে রূপান্তরের চেষ্টা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম মানা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। কাদের কী মাপকাঠিতে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হল এবং কাদের বাদ দেওয়া হল, আমাদের কাছে তার কোনও পরিষ্কার ব্যাখ্যা নেই। আমরা চাই উপাচার্য সরাসরি হস্তক্ষেপ করুন। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা হোক। নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকা উচিত নয়।’
তাঁর এই অভিযোগ পাওয়ার পর কমিশন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলেই জানা যায়। এই নোটিসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ সংক্রান্ত সমস্ত নথি, কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এই সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে কমিশন দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা প্রয়োগ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও জানানো হয়েছে চিঠিতে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলা বিভাগে সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক পদের ইন্টারভিউ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনের একদিন আগে হঠাৎ করে তা স্থগিত হয়ে যায়। গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে ইন্টারভিউয়ের জন্য নির্বাচিত ও সম্ভাব্য অনির্বাচিত—উভয় প্রার্থীর নামই প্রকাশ করা হয়।
আর এই তালিকা প্রকাশের পরও বিতর্ক শুরু হয়। একাধিক প্রার্থী দাবি করেন, তাঁদের বাদ দেওয়ার কারণ জানানো হয়নি। কোন মানদণ্ডে বাছাই হয়েছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছিল না। আবেদনকারীদের প্রশ্ন বা আপত্তি জানানোর জন্য পাঁচ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখনও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এই বিষয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, ‘এই বিষয়ে আমাদের কাছে কমিশনের চিঠি এখনও পৌঁছয়নি। চিঠি হাতে পেলেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। আবেদনকারীদের মতামত জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং তার পরেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।’ আগামী ৯ মার্চ থেকে পর্যায়ক্রমে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। এখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জবাব ও কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এই পদে আবেদনকারী পদপ্রার্থী।