


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: যুবসাথী প্রকল্পে মুর্শিদাবাদ জেলার ছ’লক্ষ যুবক-যুবতীদের অ্যাকাউন্টে সবমিলিয়ে প্রায় ৯০কোটি টাকা ঢুকল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার পর শনিবার থেকেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরু হয়েছে। যা পেয়ে ওই যুবক-যুবতীদের মুখে হাসি ফুটেছে।
রাজ্যের শিক্ষিত জীবিকাহীন যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানে সাহায্য করতে এই প্রকল্প চালু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্প আন্তর্জাতিক নারী দিবসের উপহার বলে জানিয়েছিলেন। কারণ, যুবকদের পাশাপাশি ২১-২৫বছর বয়সি যুবতীরাও এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। ফলে যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে টাকা পান না, এমন যুবতীরাও এই প্রকল্পে আবেদন করে টাকা পেতে শুরু করেছেন।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে ১৫০০টাকা আর্থিক সাহায্য করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, যাঁরা মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষায় পাশ করেছেন, কোনো চাকরি বা কাজ করেন না-তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাঁচবছর সুবিধা মিলবে। কোনো স্কলারশিপ, শিক্ষাশ্রী, কন্যাশ্রী বা রূপশ্রী প্রকল্পে সুবিধা পেলেও এই প্রকল্পে আবেদন করা যাবে। তবে রাজ্য সরকারের অন্য কোনো প্রকল্পে আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকলে এই প্রকল্পে টাকা মিলবে না। মুর্শিদাবাদ জেলায় যুবসাথী প্রকল্পে প্রায় ছ’লক্ষ যুবক-যুবতী টাকা পেতে শুরু করেছেন।
সেইসঙ্গে, ভূমিহীন চাষি বা খেতমজুরদের এবার রাজ্য সরকার আর্থিক সাহায্য করছে। যাঁরা অন্যের জমিতে চাষাবাদ করে জীবনযাপন করেন, তাঁদের বছরে দু’টি পর্যায়ে চারহাজার টাকা দেওয়া হবে। এই প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত মুর্শিদাবাদেই রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে। সংখ্যাটি হল সাতলক্ষ।
জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, আমরা শুক্রবার রাতেই যোগ্যদের তালিকা ট্রেজারিতে পাঠিয়েছি। শনিবার থেকেই টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। মুর্শিদাবাদে যুবসাথী প্রকল্পে ছ’লক্ষের বেশি আবেদনকারী ছিল। প্রাথমিকভাবে ছ’লক্ষের কাছাকাছি যুবক-যুবতী সরাসরি অ্যাকাউন্টে টাকা পাচ্ছেন।
উপভোক্তা অনীশকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একেবারে নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য যে সমস্ত প্রকল্পের কথা ভেবেছেন, ভারতবর্ষে আর কোনো মুখ্যমন্ত্রী তা ভাবতে পারেননি। সরকারি প্রকল্প বলে আবেদন করেছিলাম। তবে এত তাড়াতাড়ি টাকা পাব-তা আশাই করিনি।
জলঙ্গির সীমান্ত লাগোয়া এলাকার বাসিন্দা আশাবুল শেখ বলেন, আমার বাবা চাষের কাজ করেন। আমি সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি। বাড়ি থেকে বিডিও অফিসের কাছে এসে অনলাইনে ফর্ম ফিলআপ, তারপর স্টাডি মেটিরিয়াল কিনতে ভালোই টাকা খরচ হয়। বাবার কাছে এখন টাকা চাইতে বাধে। এবার এসব খরচ আমিই চালাতে পারব। এজন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। তবে এই টাকা পাঁচবছর পর্যন্তই পাব। তার আগেই যাতে আমরা শিক্ষিত যুবরা চাকরি পেতে পারি, সেজন্য মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।