


টোকিও: ২০২১ সালের ৮ আগস্ট! ক্রীড়াবিশ্বে শ্রেষ্ঠত্বের পতাকা উড়িয়ে ছিলেন নীরজ চোপড়া। জাপান ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ৮৭.৫৮ মিটার জ্যাভেলিন ছুড়ে টোকিও ওলিম্পিকসে সোনা জিতেন পানিপত কা পুত্তর। চার বছর পর সেই একই স্টেডিয়াম নীরজের মুখ খুবড়ে পড়ার সাক্ষী থাকল। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা তো দূর অস্ত, অষ্টম স্থানে শেষে করলেন গতবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। বৃহস্পতিবার পাঁচবারের প্রয়াসে নীরজের সেরা স্কোর ৮৪.০৩ মিটার। যা তাঁর সেরা ছন্দের ধারেকাছেও নয়। ৮৮.১৬ মিটার থ্রোয়ে সোনা জিতেছেন ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কেশরন ওয়ালকট। উল্লেখ্য, ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকসে সোনা জিতেছিলেন তিনি। দীর্ঘ ১৩ বছর পর ফের মেজর টুর্নামেন্ট জিতলেন তিনি। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে শেষ করেছেন অ্যান্ডারসন পিটার্স (৮৭.৩৮) ও কার্টিস টম্পসন (৮৬.৬৭)। ভারতের শচীন যাদবও ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্স মেলে ধরেছেন। ৮৬.২৭ মিটার জ্যাভেলিন ছুড়ে তিনি চতুর্থ।
২৬টি ইভেন্ট পর প্রথমবার পোডিয়ামে ফিনিশ করতে ব্যর্থ নীরজ। শুধু তাই নয়, গত ২৬টি ইভেন্টে কখনও তৃতীয় হননি তিনি। প্রতিবারই প্রথম দুইয়ে থেকেছেন। এদিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল নীরজ ও নাদিম দ্বৈরথ। প্যারিস ওলিম্পিকসে ভারতীয় তারকাকে ছাপিয়ে সোনা জিতেছিলেন পাকিস্তানের আরশাদ নাদিম। তাছাড়া গত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে নীরজ সোনা ও নাদিম রুপো জেতেন। তবে এবার ফাইনালে দু’জনেই চূড়ান্ত ফ্লপ। ৮২.৭৫ মিটার স্কোর করে দশম স্থানে প্রতিযোগিতা শেষ করলেন নাদিম। হতাশ নীরজের মন্তব্য, ‘এতটা খারাপ পারফরম্যান্স আশা করিনি। তবে দু’সপ্তাহ আগে পিঠের সমস্যা হয়েছিল। সেটা প্রকাশ্যে আনতে চাইনি। যাই হোক, খেলাতে তুমি সবদিন জিতবে না। হারটা মেনে নিয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব।’
নীরজের পারফরম্যান্স গ্রাফ যে পড়ছে, তা বোঝাই যাচ্ছে। কিছুদিন আগে জুরিখ ডায়মন্ড লিগের ফাইনালেও সোনা জিততে ব্যর্থ হন। এদিন ফাইনালে প্রথম প্রয়াসেই ৮৬.২৭ মিটার জ্যাভেলিন ছুড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন শচীন। সেখানে নীরজের স্কোর হতশ্রী ৮৩.৬৫ মিটার। দ্বিতীয় প্রয়াসে কিছুটা উন্নতি অবশ্য করেছিলেন তিনি। তাঁর ৮৪.০৩ মিটার স্কোর ভারতীয়দের মনে আশা জাগিয়েছিল। পরের থ্রো ফাউল। চতুর্থ থ্রো অবনতি ঘটে (৮২.৮৬)। আশা ছিল, পঞ্চম থ্রোয়ে অসাধারণ কিছু করবেন। কিন্তু কোথায় কী? বাড়তি জোর লাগাতে গিয়ে ট্র্যাকে পড়ে যান। সেই সঙ্গে থ্রোও ফাউল হয়। অর্থাত্, প্রথম ছয়ের মধ্যে না থাকতে পারায় শেষ রাউন্ডে আর সুযোগ পাননি তিনি। অন্যদিকে, শচীন যাদবও বাকি প্রয়াসগুলি কাজে লাগাতে ব্যর্থ।