


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জেইই মেইন, ইউপিএসসি, প্ল্যাঙ্কস-এর মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত পরীক্ষায় ভালো ফলের পর এবার ডাক্তারিতে ভর্তির সর্বভারতীয় পরীক্ষা ‘নিট’-এও বাংলার ছেলেমেয়েদের ভালো ফল অব্যাহত। অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্কিংয়ে প্রথম ২০-তে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলার মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা। ‘নিট’-এ পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রথম হয়েছেন রাজারহাটের রচিত সিনহা চৌধুরী। তাঁর সর্বভারতীয় র্যাঙ্কিং ১৬। বর্ধমানের সুভাষপল্লির বাসিন্দা রূপায়ণ পাল হয়েছেন রাজ্যে দ্বিতীয়। তাঁর সর্বভারতীয় র্যাঙ্কিং ২০। রূপায়ণ ভবিষ্যতে নিউরোলজি নিয়ে পড়াশোনা করতে চান। চিকিৎসক হয়ে গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান।
শুধু এই দু’জনই নয়, সর্বভারতীয় র্যাঙ্কিংয়ে সেরা ১০ তফসিলি জাতির (এসসি) এবং ইডব্লুএস পরীক্ষার্থীর তালিকাতেও রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এসসি ক্যাটিগরিতে সারা দেশের প্রথম ১০-এর তালিকায় দু’জনই বাংলার। দ্বিতীয় স্থানাধিকারী হয়েছেন নীহার হালদার এবং সপ্তম স্থানাধিকারী হয়েছেন দেবার্ঘ বাগ। ইডব্লুএস ক্যাটিগরিতে দেশে দ্বিতীয় হয়েছেন বাংলার অনীক ঘোষ। সর্বভারতীয় র্যাঙ্কিংয়ে সমস্ত ধরনের ক্যাটিগরি মিলিয়ে প্রথম ১০০ মেধাবী ছাত্রছাত্রীর তালিকাতেও রয়েছে অনীকের নাম (এআইআর-৬৭)।
ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি সূত্রে খবর, এবার ‘নিট’-এ দেশে প্রথম হয়েছেন রাজস্থানের মহেশ কুমার। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানাধকিারী যথাক্রমে মধ্যপ্রদেশের উৎকর্ষ আওয়াধিয়া এবং মহারাষ্ট্রের কৃশাঙ্গ যোশী। মেয়েদের মধ্যে প্রথম এবং সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে পঞ্চম হয়েছেন দিল্লির অভিকা আগরওয়াল। এবারের ফলপ্রকাশ হওয়ার পর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় লক্ষ্য করেছেন অভিভাবক এবং ছাত্রছাত্রীরা। এবার প্রশ্নপত্র নিয়ে প্রচুর অভিযোগ ছিল। মোট প্রাপ্ত নম্বরেও তার আভাস মিলেছে। ২০১৭ সালের পর থেকে এই প্রথম ‘নিট’-এ সর্বভারতীয় র্যাঙ্কিংয়ে প্রথম স্থানাধিকারী ৭২০ তে ৭২০ তো দূরস্থান, ৭০০’রও অনেকটা কম নম্বর পেয়েছেন। প্রথম স্থানাধিকারী মহেশ পেয়েছেন ৬৮৬। যদিও অসংরক্ষিত শ্রেণি বা ইউআর-এ উত্তীর্ণ হওয়ার ‘কাট অফ’ খুব একটা নামেনি (১৪৪)। তফসিলি উপজাতি-বিশেষভাবে সক্ষম ক্যাটিগরিতে অবশ্য ‘কাট অব মার্কস’ নেমেছে ১১৩-তে।
এবার মোট ২২ লক্ষ ৬ হাজার ৯৬৮ জন পরীক্ষায় বসেন। ‘নিট’ উত্তীর্ণ হয়েছেন বা কোয়ালিফাই করেছেন ১২ লক্ষ ৩৪ হাজার ৯৯১ জন। এর মধ্যে বাংলা থেকে পরীক্ষায় বসেছিলেন ১ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫৯ হাজার ১৮ জন। ‘নিট’ প্রস্তুতিতে যুক্ত নামজাদা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আকাশ এডুকেশনাল সার্ভিসেস লিমিটেড জানিয়েছে, ‘এবার তাদের কেন্দ্রের ১৮জন ছাত্রছাত্রী এক হাজার সর্বভারতীয় র্যাঙ্কিংয়র মধ্যে রয়েছে। এআইআর ১৬ এবং ২০ অর্থাৎ নিটে বাংলায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানাধিকারী রচিত এবং রূপায়ণ দু’জনেই তাদের ছাত্র। পরীক্ষা প্রস্তুতিতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত শিক্ষক ডাঃ এ কে মাইতি। তিনি বলেন, ‘অসংরক্ষিত শ্রেণিতে কাট অব ১৪৪ থাকাটা বেশ সন্দেহজনক। কঠিন প্রশ্নপত্র, প্রথম স্থানাধিকারীর নম্বর অন্যবারের তুলনায় কম থাকা সত্ত্বেও উত্তীর্ণ হওয়ার কাট অফ কমেনি।’