


কাঠমাণ্ডু: মৃত আর নিখোঁজের জন্য হাহাকার এখন নেপালজুড়ে। চলছে উদ্ধারকাজ। এরমধ্যে পরিকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ শুরু করল হড়পা বানে বিপর্যস্ত এই পার্বত্য দেশ। সবচেয়ে বড় সমস্যা ফের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা। হিমালয়ের কোলে বয়ে গিয়েছে বহু ছোট-বড় নদী। সংকীর্ণ জলধারা পার করে যেতে হয় এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে। ভোটেকোশী নদীতে হড়পা বানের তীব্র স্রোতে বহু সেতু ভেঙে গিয়েছে। এই অবস্থায় অস্থায়ী ব্রিজ চেয়ে প্রতিবেশী ভারত ও চীনের দ্বারস্থ হয়েছে কাঠমাণ্ডু। দুই দেশই প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ‘কাঠমাণ্ডু পোস্ট’। চীন ইতিমধ্যে দু’টি ১০০ মিটারের বেইলি ব্রিজ নেপালে পাঠিয়েছে। কোরালা সীমান্ত পার করে ব্রিজগুলি মুস্তাং-এ পৌঁছেছে। নেপালের সড়ক যোগাযোগ মন্ত্রক জানিয়েছে, রাস্তা এবং সেতু মিলিয়ে হড়পা বানে ৩ হাজার কোটি নেপালি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আর এগুলি বানাতে খরচ হবে পাঁচ হাজার কোটি নেপালি টাকা।
এখনও পর্যন্ত নেপালে ১ হাজার ৩৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৪ হাজার ৯৯৪ জন নিখোঁজ। নেপালের ন্যাশনাল ডিজআস্টার রিস্ক রিডাকশান অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, ১৩ হাজার ৩৯৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাড়ি, গাড়ি, রাস্তা, সেতু থেকে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। কালান্তক বান সবই গ্রাস করেছে। রাসুয়া এবং চিতওয়ান জেলার মধ্যে সংযোগকারী ৪১টি মোটরেবল ব্রিজ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। চারটি সেতুর আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ৬৩টি সেতুর মধ্যে কেবল ১৮টি অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। রাসুয়া জেলার সঙ্গে নুয়াকোটা জেলার সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে মঙ্গলবার রাতে নেপালের মুসতাং জেলায় ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনূভূত হয়েছে। কেঁপে উঠেছিল মায়াং, ডলপ ও মায়াগদি জেলার একাংশ। কম্পন অনূভূত হয়েছে তিব্বতেও। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।