


মিত্রা। দক্ষিণ কলকাতায় বড় হওয়া মেয়েটির বিয়ে হয় উত্তর কলকাতায়। তার স্বামী একটি নামজাদা পত্রিকার সম্পাদক। স্কুল শিক্ষিকা মিত্রা অবসর সময় লেখালেখি করে। যদিও স্বামীর পত্রিকায় লেখার সুযোগ হয়নি তার। স্বামী যে মিত্রাকে লিখতে উৎসাহ দেয়, তেমনও নয়। মেয়েটি নিজের মতো থাকতে ভালোবাসে। ছাদে অনেকটা সময় কাটায়। এহেন মিত্রাকে গড়ে তুলেছেন পাওলি দাম। সৌজন্যে অভিনেত্রীর নতুন ছবি ‘ছাদ’। পরিচালনায় ইন্দ্রাণী চক্রবর্তী। কেমন ভাবে মিত্রাকে তৈরি করলেন? পাওলির উত্তর, ‘আমার জন্ম, বড় হওয়া সবটাই মধ্য কলকাতায়। ফলে মধ্য এবং উত্তর কলকাতার জীবনটা খুব ভালো দেখেছি। দক্ষিণ কলকাতার সঙ্গে অনেক পরে পরিচিত হয়েছি। বড় হওয়ার সময়ে মিত্রার মতো চরিত্র বহুবার দেখেছি।’
ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার এই ছবি নারী ক্ষমতায়নের গল্প বলবে। বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে ইতিমধ্যেই প্রশংসিত ছবিটি। পাওলির কথায়, ‘ছাদ আমাদের প্রত্যেকের খুব পছন্দের জায়গা। অনেক সময় নিজের সঙ্গে নিজের কথোপকথন করতেও একটা জায়গার প্রয়োজন হয়। ছাদ সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। আমারও ছাদে অনেকটা সময় কেটেছে। এখন বরং সেভাবে ছাদে যাওয়া হয় না। সেকারণে এই ছবির অফার যখন এসেছিল, আমার মনে হয়েছিল এই বিষয়টা নিয়ে কাজ করা উচিত।’
ইন্দ্রাণীর এটিই প্রথম ছবি। শ্যুটিংয়ে চরিত্র নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল বলেই জানালেন পাওলি। ‘নিজেরা শ্যুটিংয়ে ইম্প্রোভাইস করতে চাইলে, পরিচালকের সহায়তাই পেয়েছি। এক একজনের কাছে ছাদের মানে এক একরকম। কেউ নিরিবিলিতে সময় কাটায়। কেউ আচারের বয়াম দেয়। কেউ লেখালেখি, ছবি আঁকার মতো শৈল্পিক কাজ করে ছাদে বসে। মিত্রাও ছাদে বসে লিখত। শৈল্পিক মানুষের নিজস্ব জায়গা লাগে। মিত্রার কাছে সেটা ছাদ’, বললেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, ‘ছাদের সঙ্গে মিত্রার বন্ধুত্ব রয়েছে। ছাদের উপর ওর প্রবল নির্ভরতা রয়েছে। আমার ক্ষেত্রেও সেটা সত্যি।’
স্বরলিপি ভট্টাচার্য