


নয়াদিল্লি: দেশে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটতে চলেছে। ইরানের সাম্প্রতিকতম ঘোষণায় আশায় নয়াদিল্লি। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর শনিবার হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করে তেহরান। এর পরেই বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা যায়। এই দুই ক্ষেত্রেই ভারত আমদানি নির্ভর। তাই সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর স্পষ্ট করে জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং তাদের পশ্চিমী সহযোগীদের জন্যই শুধু হরমুজ প্রণালীর দরজা বন্ধ। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-তে এই ঘোষণা সামনে আসার পরেই ভারতের জ্বালানি তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার সোনালি সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক আইন এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রস্তাবনা মেনেই যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজের আনাগোনার নিয়ন্ত্রণ ইরান নিজের হাতে রাখছে। আমেরিকা, ইজরায়েল, ইউরোপ এবং তাদের সমর্থক দেশগুলির কোনো জাহাজকে দেখা মাত্রই আক্রমণ করা হবে।’ মঙ্গলবারই নিজেদের সমর্থক দেশ হিসাবে চীনকে হরমুজ প্রণালীর ব্যবহারে উপর ছাড়পত্র দিয়েছিল ইরান। এবার নির্দিষ্ট কিছু দেশ ছাড়া সকলকেই ছাড়পত্র দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হল।
ইরানের এই ঘোষণার গুরুত্ব অপরিসীম। পারস্য উপসাগর থেকে পণ্যবাহী জাহাজ শুধুমাত্র হরমুজ প্রণালী দিয়েই বেরতে হতে পারে। বিশ্বের মোট তৈল বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ হয় এই প্রণালী-পথ দিয়েই। দুবাইয়ের জেবেল আলি পোর্ট রয়েছে এই বাণিজ্য পথেই। বিশ্বের দশম বৃহত্তম এই কন্টেনার টার্মিনালে
অন্তত ১২টি দেশের পণ্য আদানপ্রদান হয়ে থাকে।