


দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: বিষয়, মোদি সরকারের ১২ বছর পূর্তি। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ৪ হাজার ৩৯৯ দিনের ‘শাসনকাল’ নরেন্দ্র মোদির। যা আদতে একটি রেকর্ড। এর আগে এই রেকর্ড ছিল পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর। ১৯৫২ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৩৯৮ দিন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। মোদি সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে বুধবার দিল্লিতে এনডিএ শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং উপমুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে জয়জয়কার হল বাংলারই। কারণ মোদি সরকারের এই ১২ বছরে বিজেপির অন্যতম প্রধান সাফল্য বঙ্গ বিজয়। প্রথমবার রাজ্যে এসেছে বিজেপি সরকার। আর তাই এদিন ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ‘ফোকাস’ থাকল বাংলার উপরই।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে বুধবার এনডিএ বৈঠকের ফাঁকে একটি ‘ঝালমুড়ি ব্রেক’ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই ঝালমুড়ি তাঁকে মেখে দেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং। এখানেই শেষ নয়। মুড়ি মাখার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হাত দিয়ে শুভেন্দুবাবুকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ঝালের পরিমাণ কতটা হবে! কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এদিনের ‘ঝালমুড়ি ব্রেক’-এ অংশ নিয়েছেন প্রত্যেকে। অমিত শাহ সম্পূর্ণ বাঙালি স্টাইলে কাগজের ত্রিকোণ ঠোঙায় খেয়েছেন ঝালমুড়ি। প্রসঙ্গত, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারে গিয়ে ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন মোদি। কার্যত তা ছিল প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রচারেরই অঙ্গ। কিন্তু বিশেষত বাংলা ভোটে বিজেপির বিপুল জয়ের পর সেই ঝালমুড়িই একপ্রকার ‘ব্র্যান্ডে’ পরিণত হয়েছে। শুধুমাত্র ‘ঝালমুড়ি ব্রেকে’র ক্ষেত্রেই নয়। ভারত মণ্ডপমের মঞ্চে এদিন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হাত ধরে টেনে নিয়ে এসেছেন বিজেপির অন্যতম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল। এরপর একের পর এক বিজেপি নেতা শুভেন্দুবাবুকে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করেছেন। তাঁর সঙ্গে ‘গ্রুপফি’ তুলেছেন। লক্ষণীয় বিষয় হল, অন্যান্য নেতামন্ত্রীর সঙ্গে তা ঘটেনি। বুধবার এনডিএ শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং উপমুখ্যমন্ত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘স্বপ্ন দেখা হয়েছিল বলেই এতটা পথ পেরনো সম্ভব হয়েছে। স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি সেই স্বপ্নকে আরও বড়ো করা হয়েছে। তাই সাফল্যও এসেছে।’
এই সাফল্যের খতিয়ান দিতে গিয়ে কেন্দ্রের পূর্বতন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জামানার সঙ্গে বর্তমান বিজেপি আমলের তুলনা টানেন মোদি। এই ইস্যুতে কড়া সমালাচনা করেন কংগ্রেসকে। এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কংগ্রেস সাধারণ মানুষকে শুধুমাত্র অপেক্ষা করতে শিখিয়েছিল। বিজেপি সরকার কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসে পরিষেবা দিতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষ তার ফল পাচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে এক্সপ্রেসওয়ে কিংবা রেলপথ। কংগ্রেস আমলের থেকে বহুগুণ বেশি পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে বর্তমান সরকারের আমলে।’ প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রস্তাব পাস হয়েছে এনডিএ বৈঠকে। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু প্রস্তাব পেশ করেন। অনুমোদন দেন নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী। জিতনরাম মাঝি, এইচ ডি কুমারস্বামী, একনাথ সিন্ধে, চিরাগ পাসওয়ান, জয়ন্ত চৌধুরি, বিষ্ণুদেও সাই, রাজনাথ সিং ও অমিত শাহ প্রস্তাব সমর্থন করেন। একই ইস্যুতে বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাও প্রস্তাব পাস করেছিল। দিল্লিতে এনডিএর বৈঠকে মোদি।-পিটিআই