


নয়াদিল্লি: রাজধানীর চাঁদনি চক বিধানসভা কেন্দ্র। পার্ট নম্বর ৩৩। লাল কিলা যমুনা ব্রিজ পোলিং বুথ। ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় ওই বুথে ভোটার সংখ্যা ছিল ৭২৯ জন। কিন্তু স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়া শুরু হতেই স্থানীয়দের মাথায় হাত। কারণ, গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত খসড়া তালিকায় দেখা যাচ্ছে, বুথের ৭২৯ ভোটারের মধ্যে নাম রয়েছে মাত্র এক জনের। তাহলে বাকিরা কোথায় গেলেন? সরকারি রিপোর্ট বলছে, একজনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ৬৩২ জন্য অন্যত্র চলে গিয়েছেন। ৪২ জন মৃত। ১০ ডুপ্লিকেট ভোটারের নাম কাটা পড়েছে। আরও ৪৩ ভোটারকে ‘অন্যান্য’ (আদার্স) কারণে খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এই লিস্ট প্রকাশ হতেই ঘুম ছুটেছে গায়েত্রী দেবীর মতো ওই বুথের বহু ভোটারের। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মতো ৭৪ বছর বয়সি বৃদ্ধারও নাম বাদ পড়েছে। তিনদশকেরও বেশি সময় ধরে বিজেপির বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ)-র দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। এবার নিজের নামই বাদ পড়তে হতবাক গায়েত্রী দেবী। বৃদ্ধা বলছিলেন, এখানেই সারাজীবন কাটিয়েছি। আধার, রেশন কার্ড, স্কুল লিভিং সার্টিফিকেট, জমির কাগজপত্র সবই আছে। আমার বাবা-মা দু’জনই স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের আমলে মা সেজন্য পেনশনও পেতেন। সেই নথিও রয়েছে। সব থাকার পরও খসড়ায় নাম বাদ পড়েছে। করুণ চোখে বৃদ্ধার প্রশ্ন, এবার কি প্রশাসন আমাকে ‘ঘুসপেটিয়া’ (অনুপ্রবেশকারী) বলবে? একইভাবে খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়ে অবাক কমল লাল। তাঁর বাড়ি বিজয় ঘাটের জেজে বেলা এস্টেটে। খসড়া তালিকা অনুযায়ী, তিনি অন্যত্র চলে গিয়েছেন। যদিও আতঙ্কিত হতে বারণ করেছে নির্বাচন কমিশন।