


নয়াদিল্লি: স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে ফের বিতর্কে নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা থেকে বিদেশি নাগরিকদের তাড়ানো হবে। সেই ঘোষণা করে গত বছর প্রথম দফায় বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এরপর ২৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর সম্পন্ন হয়েছে। কোনোটিতে আবার প্রক্রিয়ার কাজ শেষপর্যায়ে। ঝাড়াই বাছাইয়ের পর ছ’টি রাজ্যে মাত্র এক হাজার ৬৪০ জন বিদেশি নাগরিকের সন্ধান মিলেছে। বৃহস্পতিবার একটি সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশের পর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিদেশি নাগরিক সংক্রান্ত এই তথ্যকে হাতিয়ার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করেছেন কংগ্রেস মুখমাত্র জয়রাম রমেশ। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বৃহস্পতিবার তিনি লিখেছেন, অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো ও ভোটার তালিকা শুদ্ধ করাই এসআইআরের লক্ষ্য বলে দাবি করেছিলেন শাহ। কিন্তু যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে ওই দাবির কোনো ভিত্তি নেই। রমেশের অভিযোগ, এসআইআর মোদি ও শাহর ষড়যন্ত্র। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তা রূপায়ন করেছেন।
কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ছ’টি রাজ্যের ৯ কোটি ৮৬ লক্ষ ভোটারের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৬৪০ জন বিদেশি নাগরিক চিহ্নিত হয়েছে। অর্থাৎ ০.০২ শতাংশ। ওই সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে এসআইআর শেষ হওয়া এবং খসড়া অবস্থায় থাকা ২৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কাছে বিদেশি ভোটার নিয়ে তথ্য চাওয়া হয়। মাত্র ১১টি রাজ্য উত্তর দিয়েছে। কর্ণাটক, ঝাড়খণ্ড, মেঘালয়, কেরল, গোয়া এবং মিজোরাম বিদেশি ভোটারের সন্ধানের কথা জানিয়েছে। চারটি রাজ্য জানিয়েছে, এই ধরণের কোনো নথি তারা রাখেনি। আর ওড়িশা জানিয়েছে, তারা বিদেশি নাগরিকের তথ্য পেয়েছে। তবে নির্দিষ্ট করে তারা এই সংক্রান্ত তথ্য জানাতে পারেনি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা আলাদা করে রাজ্যগুলির কাছে বিদেশি ভোটার নিয়ে তথ্য সংগ্রহই করতে বলেনি। দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি কর্ণাটকে ৭১৬ জন বিদেশি ভোটারের সন্ধান মিলেছে।