


নয়াদিল্লি, ১৯ জুন: ফের খবরের শিরোনামে ককরোচ পার্টি প্রধান অভিজিত্ দিপকে। এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি তাঁর। আগামী ২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে রয়েছে সিজেপির দ্বিতীয় বিক্ষোভ কর্মসূচি। ঠিক তার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পরীক্ষাসংক্রান্ত বিতর্কের জেরে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিজিৎ। একই সঙ্গে ফের তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের দাবি তুলেছেন।
২০ জুন যন্তর মন্তরে সিজেপির দ্বিতীয় দফার বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে দীপকে বলেন, ' অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই এমন এক সংকটের দিকে, যা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে'। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ১১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, যার মধ্যে গত ৪৮ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। পুনঃপরীক্ষা হতে পারে কি না, সেই অনিশ্চয়তা এবং পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বহু পরিবার তাদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিপুল অঙ্কের লোন নিয়েছিল। সন্তান হারানোর পর তারা এখন আর্থিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তাই প্রশ্নপত্র ফাঁস ও সংশ্লিষ্ট সংকটের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে অবিলম্বে ১ কোটি টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দীপকে বলেন, 'গত এক মাস ধরে ককরোচ জনতা পার্টি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি তুলে দেশজুড়ে আন্দোলন করছে। আমরা শুধু এই প্রাণহানির জন্য জবাবদিহিতা চাই'। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, 'শিক্ষামন্ত্রী আপনার আস্থাভাজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কাছেই এসে থামে। তাই আমরা বিনীতভাবে শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণের অনুরোধ জানাচ্ছি'।
চলতি মাসে যন্তর মন্তরে সিজেপির দ্বিতীয় বড় সমাবেশ হতে চলেছে। এর আগে ৬ জুন শতাধিক শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবী দিল্লিতে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে পরীক্ষায় অনিয়ম এবং নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। পরবর্তীতে সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন শহরে পরীক্ষাসংক্রান্ত বিতর্ক ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। সেসব কর্মসূচিতেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে উঠে আসে।