


নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ থেকে রাজস্ব আদায় বাড়াতে ঝাঁপাচ্ছে রাজ্য সরকার। সোমবার মিনি সচিবালয় উত্তরকন্যায় এ ব্যাপারে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। প্রশাসন সূত্রে খবর, বৈঠকে জিএসটি এবং আবগারি বিভাগকে ২০-৩০ শতাংশ রাজস্ব আদায় বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস জমানায় রাজস্ব লুট হয়েছে। সরকারের কোষাগারে জমা পড়েনি। এদিন বৈঠকের পর এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন।
এদিন দুপুরে উত্তরকন্যায় জিএসটি এবং আবগারি বিভাগের অফিসারদের নিয়ে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। প্রশাসন সূত্রে খবর, জিএসটি আদায় এবং মদ বিক্রি থেকে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ নিয়ে বৈঠকে দীর্ঘক্ষণ পর্যালোচনা করা হয়। সবকিছু শোনার পর সংশ্লিষ্ট দু’টি বিভাগের আধিকারিকদের রাজস্ব আদায় অভিযান বাড়ানোর নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, শিলিগুড়িকে করিডর করে উত্তরবঙ্গের পাহাড়-সমতল, পাশের রাজ্য বিহারে বেআইনিভাবে মদ পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ। তাতে সরকারের রাজস্ব মার খাচ্ছে বলে অভিযোগ। একইভাবে কিছু সংস্থা জিএসটি ফাঁকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ। প্রশাসনের এক অফিসার জানান, বৈঠকে জিএসটি ও আবগারি দপ্তরের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিতে অনিয়ম রোখার পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ২০-৩০ শতাংশ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এরবাইরে রেভিনিউ স্ট্যাম্প নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়।
এদিকে, উত্তরবঙ্গে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিগত তৃণমূল সরকার বিভিন্ন সময় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিন বৈঠকের পর অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন যেখানেই হাত দেওয়া যাচ্ছে, সেখানেই দুর্নীতির গন্ধ মিলছে। বালি, পাথর, মাটি, মদ, টোলট্যাক্স আদায় সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিগত সরকারের আমলে রাজস্ব লিকেজ হয়েছে। অর্থাৎ যা রাজস্ব আদায় হতো, তা সরকারের কোষাগারে জমা পড়ত না। অধিকাংশটাই লুট হত। এবার সেই কারবার বন্ধ করা হবে। এজন্য বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও, তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলা সভাপতি (সমতল) কুন্তল রায় বলেন, হাওয়া গরম করতেই এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে। যা গুরুত্বহীন।