


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে সুপুরি পাচার চক্রের মাথায় রয়েছেন এক মহিলা। কাগুজে কোম্পানির মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা সুপুরি বাংলাদেশে উৎপন্ন বলে দেখানো হত। বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে তা দিনের পর দিন ঢুকছিল রাজ্যে। অভিযোগ, এভাবে ২০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন চালিয়েছেন ওই মহিলা। ফলে ভারত সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। এমনই তথ্য হাতে এসেছে শুল্ক দপ্তরের। ওই মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে কাস্টমস।
শুল্ক দপ্তরের কাছে খবর ছিল, ইন্দোনেশিয়া থেকে চোরাপথে সুপুরি আসছে বাংলাদেশে। তারপর সেটি বাংলাদেশে উৎপন্ন বলে দেখিয়ে ভারতে ঢোকানো হচ্ছে। সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেডের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশকে ব্যবহার করছে পাচার সিন্ডিকেট। ফলে ভারতে কোনো শুল্ক দিতে হচ্ছে না তাদের। অবৈধ এই চোরাচালানের কারণে ভারত সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। কে বা কারা এই কারবার চালাচ্ছে, তার খোঁজ শুরু করে শুল্ক দপ্তর। সেখান থেকে তারা জানতে পারে, তনয়া বোস নামের এক মহিলা চক্রের মূল মাথা। এই অবৈধ কারবার তাঁর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাঁর অধীনে একাধিক যুবক কাজ করছে। শুল্ক দপ্তরের দাবি, ওই মহিলার সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার সুপুরি চোরাচালান চক্রের পান্ডাদের যোগ রয়েছে। তাঁর নির্দেশ মতো ইন্দোনেশিয়ার চোরা কারবারিরা মাল পৌঁছে দিচ্ছে বাংলাদেশে। অনলাইনে টাকা পেমেন্ট হচ্ছে। অবৈধ কারবার চালানোর জন্য চক্রের কিং পিন ওই মহিলা পরিচিতকে দিয়ে কাগুজে কোম্পানি খুলেছিলেন। এই কোম্পানির মাধ্যমে অর্ডার যাচ্ছে সীমান্তের ওপারে। জাল ইনভয়েস তৈরি হচ্ছে। সেখানে লেখা থাকছে সুপুরি উৎপন্ন হয়েছে বাংলাদেশে। এভাবে কোটি কোটি টাকার কারবার চালাচ্ছেন কলকাতার বাসিন্দা তনয়া। এভাবে ২০০ কোটি টাকার বেশি সুপুরি এসেছে বিভিন্ন সময়ে। ওই মহিলার মাধ্যমে এই রাজ্যে বেআইনি সুপুরি কারবারে জড়িত ব্যবসায়ীদের কাছে ওই সামগ্রী যেত। শুল্ক দপ্তরের তদন্তে ধরা পড়ে, বাংলাদেশে এই মহিলার একাধিক এজেন্ট রয়েছে। তারাই এই সুপুরি ইন্দোনেশিয়ার চোরা কারবারিদের কাছ থেকে পেত। তারপর বাংলাদেশে প্যাকেজিং করা হত। এরপর কাগুজের কোম্পানির মাধ্যমে ভুয়ো অর্ডার দেখিয়ে বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে তা ঢোকানো হত পশ্চিমবঙ্গে। কলকাতায় এই সুপারি মজুত করা হত। তারপর এজেন্টদের মাধ্যমে পাচার হয়ে যেত ভিন রাজ্যে। এই সুপুরি পানমশলা তৈরির কারখানায় যেত বলে খবর। সমস্ত তথ্য হাতে আসার পরই তনয়াকে গত ১১ জুলাই গ্রেপ্তার করে শুল্ক দপ্তর। তাকে জেরা করে জানায় যায়, এই কারবারে আরও অনেকে জড়িত। তারা চোরাপথে আসা সুপুরি বিক্রি করে বিপুল রোজগার করেছে। ওই টাকা কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে, তার খোঁজ করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।