


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বাড়লেও পেট্রল-ডিজেল এবং হেঁশেলের গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত আছে। অথচ রেশনে কেরোসিনের দাম মাসে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির অনুমতি দিয়েছে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। ১২ সেপ্টেম্বর মন্ত্রক এক চিঠিতে একথা জানিয়েছে। তবে রয়েছে দুটি শর্ত: মাসিক মূল্যবৃদ্ধি ১০ শতাংশের বেশি হবে না। দামবৃদ্ধির বিষয়টি মন্ত্রককে জানাতে হবে। মন্ত্রকের অনুমোদন পেতেই ১২ সেপ্টেম্বরের পর কেরোসিনের ইস্যু প্রাইস লিটার প্রতি প্রায় ৬ টাকা বাড়িয়েছে তেল সংস্থগুলি। ফলে এমাসে পশ্চিমবঙ্গে রেশনে প্রতি লিটার কেরোসিন কিনতে হবে ৭১-৭২ টাকা দরে। এতে গরিব মানুষ সংকটে পড়বে এবং কেরোসিনের বিক্রি আরও কমে যাবে।
কেরোসিনের দামবৃদ্ধির জন্য তেল সংস্থাগুলি কয়েকমাস যাবৎ কেন্দ্রের অনুমতি চাইছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, কেরোসিন বেচে তাদের লোকসান হচ্ছে লিটারে প্রায় ৪০ টাকা। মন্ত্রক লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছে, কোম্পানির খরচ না-ওঠা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে দাম বাড়ানো যাবে। ২০১৬ থেকে ২০২০ পর্যন্ত প্রতিমাসে লিটারে ২৫ পয়সা হারে দামবৃদ্ধির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্র। ২০২০-র এপ্রিল থেকে ভরতুকি তুলে দিয়ে মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজার দরকেই ভিত্তি মানা হয়। কিন্তু গত কয়েকমাস যাবৎ রেশনের কেরোসিনের দাম বিশেষ বাড়ানো হয়নি। কেরোসিন ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অশোক গুপ্ত জানান, কেন্দ্রের বর্তমান সিদ্ধান্তে রেশনে কেরোসিনের বিক্রি কমে যাবে। রেশনের মোট কেরোসিন সরবরাহের ৬০ শতাংশই পায় পশ্চিমবঙ্গ। কেরোসিনের দামের বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকার জনস্বার্থে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করবে বলেই তাঁদের আশা।