


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পার্সোনাল লোন উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পস্থাপনে সম্পত্তি দেখিয়ে লোন গ্রহণের প্রবণতার গতিও কম। কিন্তু বিগত তিন বছরে রকেটের গতিতে অগ্রসর হচ্ছে গোল্ড লোন। সোনা বন্ধক রেখে মধ্যবিত্তের লোন নেওয়ার প্রবণতা বিস্ময়করভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ কোনও বাড়ির কাজে, বাড়ি মেরামতি, সংস্কার, সন্তানের শিক্ষা ইত্যাদি কাজেও আজকাল সাধারণ মানুষ সোনা বন্ধক রেখে ঋণ নিচ্ছে। একদিকে এই প্রবণতার কারণ, মানুষের কাছে জমা টাকার পরিমাণ কমে গিয়েছে। তাই সামান্য প্রয়োজনেই লোন নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে পার্সোনাল লোন অথবা শিল্প ঋণের কিস্তি মেটানোর ক্ষেত্রে উচ্চ সুদের হার অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা। গত দুই বছরে পার্সোনাল লোন এবং ক্রেডিট কার্ডের লোনের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে মাসিক কিস্তি নিয়মিত মেটাতে না পারার প্রবণতা বেড়ে চলেছে। তাই গোল্ড লোনকে নিরাপদ লোন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর যেহেতু বাজারে সোনার দাম বিপুল বৃদ্ধি হয়েছে, তাই ঘরে যে সোনা রয়েছে, সেটির বিনিময়ে লোনের পরিমাণও অনেক বেশি করে পাওয়া যাচ্ছে। এই দুইয়ের যোগফল হল ২০২৩ সালে ভারতে মোট লোনের মধ্যে গোল্ড লোন যেখানে ছিল মাত্র ১৮ শতাংশ, সেটাই বিগত আর্থিক বছরে হয়েছে ৪২ শতাংশ। চলতি আর্থিক বছরের প্রথম দুই ত্রৈমাসিকে এখনও পর্যন্ত যে প্রবণতা, সেখানে দেখা যাচ্ছে, এবার পূর্বতন বছরের রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে। গোল্ড লোনের সুদের হার ৮ থেকে ১৪ শতাংশ দেওয়া হয় সাধারণ ব্যাঙ্কে। নন ব্যাঙ্কিং ফিনান্স সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে তা ১৬ থেকে ২২ শতাংশ। কিন্তু পার্সোনাল লোনের ক্ষেত্রে এই সুদের হার অনেক বেশি। অন্তত ৩০০ থেকে ৬০০ বেসিস পয়েন্ট বেশি হয় লোনের প্রকারভেদে। আর্থিক সমীক্ষক সংস্থা জে পি মরগ্যানের সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে, চলতি আর্থিক বছরে গোল্ড লোনের হার অনেক বেড়ে গিয়েছে। আর সমাজের সব স্তরের মানুষই লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দিচ্ছে গোল্ড লোন। যদিও এক্ষেত্রে সরকারি ব্যাংককে পিছনে ফেলে দিচ্ছে বেসরকারি সংস্থা।