


বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: যে কোনও পুণ্য তিথিতেই তারাপীঠ মন্দিরে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। টানা ছুটি থাকলে সেই ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এবার বুধবার অক্ষয় তৃতীয়ার পরদিনই মে দিবসের ছুটি। তারপর শুক্রবার। তাই বুধ ও শুক্রবার অফিস ম্যানেজ করতে পারলে পরপর পাঁচদিন ছুটি। সেকারণে অক্ষয় তৃতীয়া থেকে ব্যাপক ভক্তসমাগমের আশা করছে তারাপীঠ মন্দির কমিটি।
হিন্দু পঞ্জিকায় বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিই অক্ষয় তৃতীয়া নামে পরিচিত। এই বিশেষ দিনে তারাপীঠে ফি বছর ভক্তদের ভিড় থাকে। বেশিরভাগ জায়গায় পয়লা বৈশাখে হালখাতা হলেও অনেক ব্যবসায়ী পুরনো ঐতিহ্য মেনে অক্ষয় তৃতীয়ায় হালখাতা করেন। তাই এই দিনে হাজার হাজার ব্যবসায়ী সহ দূরদূরান্তের ভক্তরা পুজো দিতে তারাপীঠে আসেন। ব্যবসায়ীরা লক্ষ্মী-গণেশের বিগ্রহ নিয়ে মা তারার পুজো দেন।
এমনিতেই পরপর ছুটি থাকলে তারাপীঠে পর্যটক সমাগম বাড়ে। তার উপর অক্ষয় তৃতীয়া ও মাধ্যমিক ফল বেরনোর আগের মুহূর্ত হওয়ায় এবার ভিড় কয়েকগুণ বাড়বে বলে মন্দির কমিটির আশা।
অক্ষয় তৃতীয়ায় মা তারাকে রাজরাজেশ্বরী বেশে সাজানো হয়। সকালে মঙ্গলারতির পর গর্ভগৃহের দরজা খুলে দেওয়া হবে। সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পুজো চলে। এই বিশেষ দিনে দেবীকে দুপুরের অন্নভোগে খিচুড়ি, পোলাও, পাঁচরকম ভাজা, শোলমাছ পোড়া, মাছের মাথা এবং কারণ সহ ভোগ নিবেদন করা হবে। সন্ধ্যায় শীতল ভোগ নিবেদন ও বিশেষ আরতি হবে। সেসময় দেবীকে সোনার গয়না ও বিশেষ সাজে সুসজ্জিত করা হবে। ভক্তদের ভিড় সামাল দিতে জায়ান্ট স্ক্রিনের স্থান বদল করেছে মন্দির কমিটি। আগে কমিটির অফিসের ছাদে এই স্ক্রিন ছিল। ওই স্ক্রিনে দেবীর সন্ধ্যারতির লাইভ টেলিকাস্ট হতো। কিন্তু বেশি ভিড় থাকায় অনেক ভক্ত ওই স্ক্রিনও দেখতে পেতেন না। দূর থেকেও যাতে ভক্তরা দেবীর সন্ধ্যারতি দেখতে পান, সেজন্য এবার নাটমন্দিরের ছাদে জায়ান্ট স্ক্রিন বসানো হয়েছে। মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, ব্যবসায়ীরা যেমন পুজো দিতে আসবেন, তেমনি সন্তানদের মাধ্যমিকে ভালো ফলের কামনায় দূরদূরান্ত থেকে অভিভাবকরাও আসবেন। তাই খুব ভিড় হবে বলে মনে হচ্ছে।
বর্ধমানের মেমারি থেকে পরিবার নিয়ে এসেছিলেন রামকৃষ্ণ বসু। তিনি বলেন, প্রতিবছর অক্ষয় তৃতীয়ায় তারাপীঠে পুজো দিই। করোনার কারণে গত দু’বছর আসতে পারিনি। এদিন পুজো দেওয়ার পাশাপাশি ভাণ্ডারা দিয়ে সাধুসন্ত ও ভক্তদের মধ্যে অন্নপ্রসাদ বিলি করেছি। অপর ব্যবসায়ী ত্রিলোচন মজুমদার বলেন, ১০বছর আগে মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। এখন ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধি যথেষ্ট হয়েছে। পুজো দিয়ে দেবীকে আগামী দিনেও সহায় থাকার আবেদন জানালাম। লজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনীল গিরি বলেন, হোটেল বুকিংয়ের যে সাড়া পাচ্ছি, তাতে বুঝতে পারছি অক্ষয় তৃতীয়ায় ভালোই ভিড় হবে। • নিজস্ব চিত্র