


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শহরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গ্রামাঞ্চলের আধুনিকীকরণ। বাড়ছে জনসংখ্যা, সঙ্গে প্রতিদিনের আবর্জনাও। অথচ এতদিন গ্রামীণ হাওড়ায় পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে তা সংগ্রহের কোনো পরিকাঠামো ছিল না। এই পরিস্থিতি বদলাতে এবার পাইলট প্রোজেক্ট হিসাবে ‘বন্দেস্বচ্ছতম’ প্রকল্প চালু করল হাওড়া জেলা পরিষদ। বেছে নেওয়া হয়েছে সাঁকরাইল ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাইলট প্রকল্পের প্রথম ধাপে থানামাকুয়া, পাঁচপাড়া, দুইল্যা ও জোড়হাট—শহর লাগোয়া চারটি অঞ্চলের বাড়ি বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করা হবে। এজন্য প্রতি বাড়ি থেকে মাসে ৫০ টাকা নেওয়া হবে। চারটি অঞ্চলের জন্য ইতিমধ্যেই ১৪টি গাড়ি কেনা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আগামী দিনে আরও গাড়ি নামানো হবে। সংগৃহীত আবর্জনা একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে মেশিনে প্রক্রিয়াজাত করা হবে। তা থেকে তৈরি হবে ভেষজ সার, যা চাষের কাজে ব্যবহার করা হবে। জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি তুষার ঘোষ বলেন, ‘এতদিন পঞ্চায়েতগুলিতে আবর্জনা সংগ্রহের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে কাজ শুরু হয়েছে। সফল হলে কয়েকমাস পর বালি-জগাছা ও ডোমজুড় পঞ্চায়েত এলাকাতেও এই পরিষেবা চালু করা হবে।’ জেলা পরিষদের আধিকারিকদের দাবি, গত একদশকে চারটি এলাকায় দ্রুত নগরায়ণের ফলে বহুতল ও জনসংখ্যা বেড়েছে। ফলে প্রতিদিনের আবর্জনার পরিমাণও বেড়েছে। পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না-থাকায় আন্দুল রোডের পাশে আবর্জনা ফেলার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। বর্ষায় সেই আবর্জনা থেকে নোংরা জল রাস্তায় ছড়িয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হত। বাড়ি থেকেই আবর্জনা সংগ্রহ শুরু হওয়ায় সেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে আশা জেলা পরিষদের।-নিজস্ব চিত্র