


মণিরাজ ঘোষ, খড়্গপুর: ভোটের আবহে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। টগবগ করে ফুটছে গোটা বাংলা। সেই আঁচে গা সেঁকে এবার গান বাঁধলেন পিংলার পটশিল্পীরা। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানিয়ে গানটি রচনা করেছেন বিশ্ববন্দিত পটশিল্পী বাহাদুর চিত্রকর, মণিমালা চিত্রকর, জবা চিত্রকর, মন্টু চিত্রকররা। গানের কথা— ‘প্রকল্পেতে ভরিয়ে দিলে, রাস্তাঘাট আলোময় করলে... ও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আমরা সবাই জানাই যে প্রণাম!’
পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা ব্লকের নয়াগ্রামে বাস পটুয়া বা পটশিল্পীদের। এলাকাটি সবং বিধানসভার অধীনে। ১৩৬টি পরিবার বসবাস এখানে। মোট শিল্পীর সংখ্যা ৪০০। তাঁদের তৈরি শিল্পকর্ম এখন দেশ ছাড়িয়ে পৌঁছে যায় বিদেশেও। বংশ পরম্পরায় পিংলার নয়াগ্রামের বাসিন্দারা পটশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তবে, কয়েক বছর আগেও তাঁদের কদর এতখানি ছিল না। আর্থিকভাবেও পিছিয়ে ছিলেন। বর্তমান সরকারের আমলে সেই ছবিটা বদলেছে। পিংলার পট ও সবংয়ের মাদুর শিল্পকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গেই তাঁদের তৈরি শিল্পকর্ম যাতে বিভিন্ন মেলায় বিক্রির ব্যবস্থাও করেন। ফলে সারা বছর ধরে, বিশেষত শীতকালে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে হওয়া বিভিন্ন মেলায় গিয়ে লক্ষ্মীলাভ হচ্ছে শিল্পীদের। এমনকী রাশিয়া, জার্মানি, ইতালি সহ বিভিন্ন দেশেও রাজ্য সরকারের উদ্যোগে পটশিল্পীদের পাঠানো হয় বলে জানান বাহাদুর চিত্রকর, মন্টু চিত্রকররা।
এছাড়াও, সারা বছর ধরেই নয়াগ্রামে পর্যটকদের আনাগোনা লেগে থাকে। বিদেশি পর্যটকরাও মাঝেমধ্যে আসেন এই গ্রামে। ২০২২ সালে যেমন এসেছিলেন ইউনেস্কোর প্রতিনিধি দল। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগেই নয়াগ্রামে হয়েছে পট গবেষণা কেন্দ্র। প্রতি শনি ও রবিবার নয়াগ্রামে হাটও বসে। সেখানে পটশিল্পীদের তৈরি রামায়ণ, মহাভারত সহ নানা দেবদেবীর ছবি কিনতে ভিড় জমায় মানুষ। বর্তমানে এই শিল্পকলা উঠে এসেছে টি-শার্ট, ওড়না থেকে শাড়িতেও। এছাড়াও হাতপাখা, চায়ের কাপ থেকে জলের বোতল, সবেতেই এই শিল্পের ছোঁয়া। অসাধারণ শিল্পকর্ম পরিবেশন করে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত থেকে সম্মান গ্রহণ করেছেন নয়াগ্রামের বাহাদুর চিত্রকর। আবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্মানিত করেছেন মণিমালা চিত্রকরকে। তাঁরা বলেন, ‘আমরা শিল্পী। সবার জন্যই আমরা শিল্পসৃষ্টি করতে প্রস্তুত। ভোটের সময়ে বরাত পেলে গান বাঁধি। পটচিত্রও এঁকে দিই। তবুও আমরা আলাদা করে ধন্যবাদ জানাব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সবংয়ের বিদায়ী বিধায়ক মানসরঞ্জন ভুঁইয়াকে।’ জবা চিত্রকর, মন্টু চিত্রকর, সোনিয়া চিত্রকররা বলেন, আমরা এখন শিল্পীভাতা পাই। সর্বোপরি, যে মেলা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হয়, সেই মেলার মাধ্যমেই আমাদের আর্থিক সুদিন ফিরেছে। পিংলার নয়াগ্রামেও হয় পটশিল্প মেলা। রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী তথা সবং বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সৌজন্যেই পিংলার পট ও পটশিল্পীরা আজ পৌঁছে গিয়েছেন বিশ্বের দরবারে। পিংলার বিধায়ক অজিত মাইতি বলেন, এলাকার সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গেই শিল্পীরাও আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের আমলে।