


মিউনিখ: দু’বার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফেরা। ১২০ মিনিটের লড়াই শেষ ২-২ গোলে। সেখান থেকে টাই-ব্রেকারে রুদ্ধশ্বাস জয়। রবিবার উয়েফা নেশনস লিগ ফাইনালে স্পেনের তিকিতাকার দর্পচূর্ণ করে চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল। কেরিয়ারের শেষপ্রান্তে এসে আরও একটি আন্তর্জাতিক ট্রফি জয়ের স্বাদ পেলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ৪০ বছর বয়সেও প্রাণবন্ত পর্তুগিজ মহাতারকা। চোট উপেক্ষা করেই মোক্ষম সময়ে জাল কাঁপিয়ে ত্রাতায় ভূমিকায় সিআরসেভেন। ম্যাচ শেষে চোখের জলেই ট্রফি নিয়ে সেলিব্রেশনে মাতলেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। আর একরাশ শূন্যতার মধ্যেই মাঠ ছাড়তে হল লামিনে ইয়ামালকে। ম্যাচে রোনাল্ডো ছাড়া পর্তুগালের হয়ে জাল কাঁপান নুনো মেন্ডেজ। স্পেনের দুই গোলদাতা মার্টিন জুবিমেন্ডি ও মিকেল ওয়ারজাবাল। তবে যাবতীয় দ্বৈরথকে ছাপিয়ে ম্যাচের নায়ক পর্তুগিজ গোলরক্ষক ডিয়েগো কোস্তা। টাই-ব্রেকারে আলভারো মোরাতার শট রুখে দেশকে দ্বিতীয়বারের জন্য উয়েফা নেশনস লিগ খেতাব এনে দিলেন তিনি। পেনাল্টি শ্যুট-আউটে পর্তুগালের হয়ে জাল কাঁপান যথাক্রমে গনসালো র্যামোস, ভিতিনহা, ব্রুনো ফার্নান্ডেজ, নুনো মেন্ডেজ ও রুবেন নেভাস। স্পেনের হয়ে লক্ষ্যভেদে সফল মেরিনো, অ্যালেক্স বিয়েনা ও ইসকো।
রোনাল্ডো বনাম ইয়ামাল। রবিবার নেশনস লিগ ফাইনালে এই দ্বৈরথ ঘিরে পারদ চড়েছিল। তবে মোক্ষম সময়ে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ স্পেনের তরুণ তুর্কি। বরং বলা ভালো, তাঁকে কার্যত বোতলবন্দি করে রাখলেন নুনো মেন্ডেজ। ম্যাচে সেভাবে কোনও কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারেননি এই তরুণ উইঙ্গার। একই অবস্থা নিকো উইলিয়ামসেরও। এই দুই ফুটবলার আটকে যেতেই থমকে যায় স্পেনের যাবতীয় জোরাজুরি। এই ব্যর্থতা আরও একবার প্রমাণ করল, একজন বক্স স্ট্রাইকারের উপস্থিতি কতটা জরুরি। আর তাই ফাইনালে হারের পর অনেকেই স্প্যানিশ কোচ লুইস ডে লা ফুয়েন্তের স্ট্র্যাটেজিকে কাঠগড়ায় তুলছেন। সমালোচনার হাত থেকে রেহাই পাননি ইয়ামালও।
কঠিন সময়ে অবশ্য তরুণ তুর্কির পাশে দাঁড়িয়েছেন রোনাল্ডো। পর্তুগিজ মহাতারকা বলেন, ‘ওর মাত্র ১৭ বছর বয়স। এখনও উন্নতির জায়গা রয়েছে। আগামীতে ও অনেক সাফল্য পাবে। তাই ওকে একা ছেড়ে দেওয়া হোক।’
পর্তুগাল- ২ : স্পেন- ২
(টাই-ব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে
জয়ী পর্তুগাল)