


হায়দরাবাদ: প্রফুল হিঞ্জ ও সাকিব হুসেন— দুই অভিষেককারীর তেজে সোমবার পুড়েছে রাজস্থান রয়্যালস। দু’জনেই কোটিপতি লিগে প্রথমবার নেমে নিয়েছেন ৪টি করে উইকেট। ফলে ৫৭ রানের বড়সড় ব্যবধানে জিতেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেট মহলের চর্চায় এই দুই পেসার। অধিনায়ক ঈশান কিষান বলেছেন, ‘দু’জনকেই কৃতিত্ব দিতে হবে। সেরা পারফরম্যান্স মেলে ধরতে ওরা বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেনি। বোলিং কোচ ভরত অরুণের তত্ত্বাবধানে মরশুমের গোড়া থেকেই ওরা রয়েছে। ঘরের মাঠে দু’জনকে সুযোগ দিতেই হত। আর সেটাই কাজে এসেছে।’
বিহারের গোপালগঞ্জে জন্মানো সাকিবকে অবশ্য ২০২৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে নিয়েছিল। কিন্তু কোনও ম্যাচে খেলায়নি নাইটরা। এই বছরের নিলামে ২১ বছর বয়সিকে ৩০ লক্ষ টাকায় নেয় সানরাইজার্স। প্রথম ম্যাচেই সেই আস্থার মর্যাদা রাখেন কৃষক পরিবারের সন্তান সাকিব। একসময় দু’বেলা খাওয়ার সংস্থান ছিল না। তাই সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেনার দুই জওয়ান বাবাকে পরামর্শ দেন, ছেলে যেন ক্রিকেট খেলে। কিন্তু ১০-১৫ হাজার টাকার জুতো আসবে কীভাবে? মা সুবুকতারা খাতুনকে তাই গয়না পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়। তাঁকে ক্রিকেটার গড়ে তুলতে বাবা-মা, কাকা সর্বস্ব উজাড় করে দেন। টেনিস বলে খেপ খেলে ৫০০-৭০০ টাকা পাওয়ার দিনগুলো ভোলেননি সাকিব। গর্বিত বাবা আলির কথায়, ‘আমাদের দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণা ও মনে রেখেছে। সেই কঠিন দিনগুলো এখনও টাটকা ওর স্মৃতিতে।’ কাকা আহমেদ হুসেন বলেছেন, ‘ও খুব পরিশ্রমী, তাই সাফল্য ধরা দিয়েছে। ওর উপর ভরসা ছিল।’
২৪ বছরের প্রফুলের বাবা-মা আবার জানতেনই না যে, ছেলের আইপিএলে অভিষেক হতে চলেছে। আগের রাতে কথাবার্তার সময় কোনও আভাস পাননি। টস হওয়ার পর জানতে পারেন ছেলে রয়েছে প্রথম একাদশে। নাগপুরে জন্মানো ছেলে যখন একের পর এক উইকেট নিচ্ছেন তখন আনন্দ বাঁধ ভাঙে। প্রফুলের বোলার হিসেবে সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন জাতীয় দলের প্রাক্তন পেসার প্রশান্ত বৈদ্য। তিনিই চেন্নাইয়ের এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে গ্লেন ম্যাকগ্রার চেখে পড়া। ট্রেনিংয়ের জন্য ব্রিসবেনেও যান প্রফুল। লাইন-লেংথ কী হওয়া উচিত, বড় ম্যাচের চাপ কীভাবে সামলাবে, হাতে ধরে শেখান ম্যাকগ্রা। অবদান রয়েছে সানরাইজার্সের বোলিং কোচ বরুণ অ্যারনেরও। কী না করেছেন প্রফুল? ভোর চারটেয় উঠে দৌড়েছেন মাঠে। কোভিডের কারণে বাধা পড়েছিল খেলায়। কোমরের চোটও সমস্যায় ফেলেছিল। টানা ছ’মাস বল করতে পারেননি। কিন্তু জেদ আর সংকল্পে যাবতীয় প্রতিকূলতা টপকেছেন তিনি। বাবা বলেছেন, ‘কঠোর পরিশ্রম করতে বলেছি ছেলেকে। আর সুযোগ পেলেই তা কাজে লাগাতে।’ উপ্পলে রাজস্থানের বিরুদ্ধে ২৪ বছর বয়সি ঠিক সেটাই করেছেন।