


সুখেন্দু পাল, সমুদ্রগড়: দলের মহিলা কর্মীরা পতাকা হাতে সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। পুরুষরা রয়েছেন অন্য সাইডে। মাঝখানে দাঁড়িয়ে হ্যান্ড মাইক হাতে বক্তব্য রাখছেন পূর্বস্থলী দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী স্বপন দেবনাথ। রাজ্য সরকার মহিলাদের জন্য কী কী করেছেন, সেটা তিনি বোঝাচ্ছেন। আগামী দিনে সমুদ্রগড় কীভাবে শান্তিনিকেতনের সোনাঝুড়ির হাট হয়ে উঠতে পারে, তার রূপরেখা তিনি তুলে ধরছিলেন। পরিকাঠামো তৈরি হয়ে গিয়েছে। কাছেই নবদ্বীপ শহর। তাই এই হাট যে আগামী দিনে জমজমাট হয়ে উঠতে পারে, সেই সম্ভাবনার কথাও বলে যাচ্ছিলেন। তারপর তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বললেন, চলো সবাই হাটে যাই। দেরি হয়ে গেলে বাজার বন্ধ হয়ে যাবে। নেতার নির্দেশ মেনে পা চালাতে শুরু করলেন দলের কর্মী-সমর্থকরা।
স্বপনবাবু যখন হাঁটতে শুরু করলেন, তাঁদের অনেকেরই ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। তার গতির সঙ্গে পেরে উঠতে পারছিলেন না অনেকেই। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বাজারের অলিগলি চষে বেড়ালেন। অনেকেই দোকানে বসে জিরিয়ে নিলেন। কিন্তু তিনি সমানেই হেঁটে চলেছেন। একবারের জন্যও দেখে মনে হবে না তাঁর বয়স ৭০ পেরিয়েছে। হাতে ফুলের মালা। প্রবীণদের দেখলেই মালা পরিয়ে জোড়হাত করছেন। সমুদ্রগড় বাজারের কাছেই আখের রস বিক্রি করছিলেন জীবন বসাক। তৃণমূল প্রার্থী তাঁর দিকে এগিয়ে যেতেই জীবনবাবু বললেন, আপনি আমাদের ঘরের মানুষ, আপনার আমাদের কাছে ভোট চাওয়ার দরকার নেই। শুধু তিনি নন, আরও অনেকের কাছেই আশ্বাসবাণী পেলেন স্বপনবাবু। কিন্তু আত্মবিশ্বাসে ভুগতে তিনি রাজি হন। বাজারে গিয়ে মাছ ও সবজি বিক্রেতাদের কাছে গিয়ে মন্ত্রী বললেন, আপনাদের এলাকায় গঙ্গার উপর জেটি তৈরি হওয়ায় আপনাদের খুব ভালো হয়েছে বলুন? সমুদ্রগড়ের নদী ভাঙন রোধের কাজও শুরু হয়েছে। আর কিছু দরকার থাকলে বলুন। সকলেই প্রায় একই সুরে বললেন, আপাতত কিছু সমস্যা নেই।
এবার একটি খাবারের হোটেলে ঢুকলেন তিনি। হোটেল মালিককে কাছে টেনে বললেন, কেন্দ্রীয় সরকার গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে কী করছে, বলুন তো। আপনাদের ব্যবসা মার খাচ্ছে। তবে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানুষের পাশে আছেন। ছোটো ব্যবসায়ীদের জন্য তিনি লোনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। যাঁরা হোটেলে কাজ করছেন, তাঁদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা যোজনা রয়েছে। মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন হোটেল মালিক।
তখন ঘড়ির কাঁটায় দুপুর ১টা ছুঁয়েছে। রাস্তার পাশে একটি দোকানে বসে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর রওনা দিলেন শ্রীরামপুর গ্রামীণ হাসপাতালের গেটের কাছে। বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা রোগীদের কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, তা জানতে চাইলেন। হাসপাতালের ভিতরেই তৈরি হয়েছে ফুলের বাগান। দোতলায় রয়েছে সেন্ট্রাল এসি। স্বপনবাবু বলেন, এটা আমার স্বপ্ন ছিল। আমাদের এলাকার বাসিন্দারা যাতে ভালোভাবে চিকিৎসার সুযোগ পায়, সেই কারণেই এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী দিনে আরও অনেক পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, শুধু ভোট বলে নয়, সারা বছরই মাটির কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করেন স্বপনবাবু। দোকানে বসে চা খাওয়া কিংবা ঘুগনি মুড়ি খাওয়া রেওয়াজ এখনো বদলাননি। একেবারেই যেন পাশের বাড়ির মানুষ। নির্দিষ্ট কোনো ডায়েট মানেন না। সকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টানা প্রচার করেন। প্রচারে বেরিয়ে তিনি বলছেন, সব কেন্দ্রেই প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে দেখেই আপনারা আমাকে ভোট দিন।