


মুম্বই, ১০ জুলাই: চেক বাউন্স মামলায় আরও বিপাকে বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদব। সাতটি মামলায় তাঁকে ৩ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল দিল্লির হাইকোর্ট। আজ, শুক্রবার আদালতের পক্ষ থেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মোটা অঙ্কের জরিমানাও করা হয়েছে তাঁকে। জানা গিয়েছে, ৭টি মামলার প্রতিটিতে ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা করে দিতে হবে অভিনেতাকে। এছাড়া আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজপালের করা আবেদনকেও খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা। শুধু রাজপাল যাদবই নন তাঁর স্ত্রী রাধা যাদবকেও আর্থিক ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সূত্রের খবর, প্রতিটি মামলায় অভিযোগকারীকে প্রায় ৫ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা দিতে হবে। আদালত জানিয়েছে, অভিনেতা ইতিমধ্যেই যে ২.২৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন। তা চূড়ান্ত হিসাব থেকে বাদ যাবে। কিন্তু বাকি অর্থ বারবার ফেরতের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও তিনি তা দেননি। একাধিক চেক বাউন্স হয়েছে। যা আইনত অপরাধ বলেই গণ্য হবে। এর জন্য তাঁকে শাস্তি পেতেই হবে। গতবার চেক বাউন্স মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজপাল। সেইসময় অভিযোগকারীকে দেড় কোটি টাকা ফেরত দেওয়ায় সাজায় অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ মঞ্জুর করেছিল আদালত। কিন্তু এবারে আর ছাড় পেলেন না তিনি। তাঁকে কারাদণ্ডের সাজা শোনাল আদালত। কিন্তু এদিনের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চ আদালতে যাবেন কী না সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছুই জানাননি রাজপাল যাদবের আইনজীবী।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে নিজের পরিচালিত প্রথম ছবি আতা পাতা লাপাতা-র জন্য মেসার্স মুরলী প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি সংস্থার কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন রাজপাল। কিন্তু বক্সঅফিসে ওই ছবিটি ধাক্কা খায়। এরপর থেকেই ঋণ পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে অভিনেতা গড়িমসি শুরু করেন। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় ঋণ প্রদানকারী সংস্থার পক্ষ থেকে। পুলিশ-প্রশাসনের দ্বারস্থ হয় অভিযোগকারী। বিষয়টি দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের দিকে এগোয়। শেষে সুদে-আসলে সেই বকেয়া টাকার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা।