


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘গো ব্যাক’ স্লোগানে উত্তাল গ্যালারি। উড়ে আসছে বাছা বাছা বিশেষণ। অস্কার ব্রুজোঁর পদত্যাগের দাবি আছড়ে পড়ছে ডাগ-আউটে। কিন্তু স্প্যানিশ কোচ নির্বিকার। উদ্ধত দৃষ্টিতে তাকিয়ে গটগটিয়ে ফিরলেন ড্রেসিং-রুমে। ভাগ্যিস ম্যাচ হচ্ছে যুবভারতীতে। ময়দান হলে ‘ব্রুজোঁ ঘেরাও’ কর্মসূচি নিশ্চিত ছিল। অস্কারের বোঝা উচিত, কাকের গায়ে পেখম জুড়লে ময়ূর হয় না। পারফরম্যান্স নেই। টিম স্পিরিট শূন্য। উলটে সাংবাদিক সম্মেলনে বড় মুখ করে সাফাই দিলেন। অস্কারের মন্তব্য, ‘মনঃসংযোগ হারিয়ে গোল হজম করতে হল। দ্বিতীয়ার্ধে দল কিন্তু খারাপ খেলেনি।’ কমেডি শো হলে ব্রুজোঁ দারুণ মানানসই।
আইএসএলে ইস্ট বেঙ্গলের পরের প্রতিপক্ষ মহমেডান স্পোর্টিং। কোচ ছাঁটাইয়ের আবহে ব্রুজোঁ অবশ্য ডোন্ট কেয়ার। বরং তাঁর মন্তব্য, ‘ভুল দ্রুত শুধরে নিতে হবে। খারাপ খেললে সমর্থকরা হতাশা প্রকাশ করবেই। সেটাই প্রত্যাশিত।’ চড়া বিক্ষোভেও তাঁর বিন্দুমাত্র তাপ-উত্তাপ নেই। ড্রেসিং-রুম কার্যত হাতের বাইরে। জেরি, সায়ন, ডেভিডরা জার্সি পান না। এমন ফুটবলের জন্য ক্লোজড ডোর প্র্যাকটিসের প্রয়োজন নেই। ম্যাচের পর লগ্নিকারী সংস্থার কোনও কর্তাকে দেখা যায়নি। হাওয়া গরম বুঝে মুখ লুকিয়েছেন থংবই সিংটো। কর্পোরেট জমানায় পারফরম্যান্সই শেষ কথা। তাই যদি হয় তবে ইয়ার এন্ডিং মার্চে অস্কারকে পোষার কী অর্থ? শেষবেলায় ইস্ট বেঙ্গল শীর্ষকর্তার কাছে অভিযোগ উগরে দেন সমর্থকরা। দেবব্রত সরকারের মন্তব্য, ‘সত্যি এত খারাপ ফুটবল মানা যায় না।’ সমর্থকদের হতাশা স্বাভাবিক। তাদের কাছে লাল-হলুদ রংটাই সবকিছু। ঝাড়গ্রাম থেকে ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন সুব্রত দাস। স্টিল এক্সপ্রেসে হাওড়া। কোনরকমে নাকেমুখে গুঁজে সোজা যুবভারতী। মিগুয়েলদের জঘন্য ফুটবল দেখে বিধ্বস্ত। কোনওরকমে শরীর টানতে টানতে যুবভারতী ছাড়লেন লাল-হলুদের অন্ধ ভক্ত। সমর্থকদের আবেগের দাম আর কবে বুঝবেন সাউল-রশিদরা!