


সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতনের আশ্রম এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ফের বাড়ছে ভারী গাড়ির আনাগোনা। বালি, ইট ও সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক, লরি ও ট্রাক্টরের দাপটে প্রতিদিনই সমস্যায় পড়ছেন পথচারী, পড়ুয়া ও স্থানীয়রা। ছোটো-বড়ো দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ। অথচ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন বা বিশ্বভারতীর তেমন উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলেই দাবি স্থানীয়দের। ফলে আশ্রম এলাকার নিরাপত্তা ও ঐতিহ্য রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে এই রাস্তা রাজ্য সরকার বিশ্বভারতীর হাতে তুলে দেয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২০ সালে জেলা সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপাসনা গৃহের সামনে থেকে কালীসায়ের পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা ফের বিশ্বভারতীর কাছ থেকে নিয়ে নেন। বর্তমানে রাস্তাটি রাজ্যের পূর্ত দপ্তরের অধীনে রয়েছে। পরে বিশ্বভারতীর তরফে রাস্তা ফেরত চেয়ে রাজ্যকে চিঠি দেওয়া হলেও সেই বিষয়ে আর অগ্রগতি হয়নি।
শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্য ক্ষেত্রের মূল প্রবেশপথের এই রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় একসময় বেহাল হয়ে ছিল। বিভিন্ন জায়গায় পাথর উঠে গিয়ে বড়ো, বড়ো গর্ত তৈরি হয়। মাস কয়েক আগে পূর্ত দপ্তর নতুন করে রাস্তাটি সংস্কার করে। কিন্তু সংস্কারের পরেও আশ্রম এলাকার ভিতরে থাকা এই রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণে তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ।
বর্তমানে শুধু শনি ও রবিবার স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন শান্তিনিকেতন পোস্ট অফিস মোড় থেকে সঙ্গীত ভবন পর্যন্ত সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত গার্ডরেল বসিয়ে আংশিক যান নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু সপ্তাহের বাকি দিনগুলিতে তেমন কোনও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ভারী গাড়ি ঢুকে পড়ছে আশ্রম এলাকায়। শিক্ষাভবন মোড় থেকে কালীসায়েরের রাস্তা ধরে রোজ ইট, বালি ও সিমেন্ট বোঝাই লরি ও ট্রাক চলাচল করছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, ভারী গাড়ি চলাচলের ফলে নতুন করে তৈরি হওয়া রাস্তাও কয়েক জায়গায় ভাঙতে শুরু করেছে। পাশাপাশি পথচারী, পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
প্রবীণ আশ্রমিক তথা শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার বলেন, ভারী গাড়ি চলার ফলেই নতুন রাস্তা ভাঙতে শুরু করেছে। এই রাস্তার উপর একাধিক ভবন রয়েছে এবং বহু পড়ুয়া এই রাস্তাতেই যাতায়াত করে। তাই অবিলম্বে ভারী গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এনিয়ে বোলপুর মহকুমা পূর্ত দপ্তরের (কনস্ট্রাকশন) অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার জয়ন্ত মণ্ডল বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। অন্যদিকে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, ওই রাস্তা রাজ্যের অধীনে। আমাদের কিছু করার নেই। শান্তিনিকেতনে আশ্রম এলাকায় ভারী গাড়িতে নষ্ট হচ্ছে রাস্তা। -নিজস্ব চিত্র