


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সরকারি রাস্তা। যানবাহন চলাচলের জন্য তৈরি। কিন্তু তাতে কী! ওই রাস্তা যেন ‘নিজস্ব গ্যারাজ’! মূল রাস্তা থেকে ব্লকের গলি। শুধু গাড়ির লম্বা লাইন। সবই বেআইনি পার্কিং! কেউ কেউ আবার রাস্তা ছেড়ে গাড়ির ‘যত্ন’ নিতে ফুটপাতও দখল করে নিয়েছেন। মাঝে মাঝে পুলিশের অভিযান চলেছে। নম্বর প্লেট দেখে বেআইনি পার্কিংয়ের মেসেজ পাঠিয়েছে। ওইটুকুই। তারপর যে কে সেই। শহরের অনেকেই বলছেন, ফুটপাতের উপর গরিব দোকানদারদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। কাঠামো সরিয়ে ছাতা পেতে দোকান করতে বলছে। অথচ যাঁরা রাস্তা দখল করে গাড়ি রাখছেন তাঁদের ব্যাপারে ‘মুখে কুলুপ’। বেআইনি পার্কিং নিয়ে এবার সোচ্চার হয়েছেন অনেকেই।
পুরসভা ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সল্টলেকের রাস্তায় বেআইনি গাড়ি পার্কিংয়ের রোগ বহুদিনের। অনেকে রাস্তাকেই নিজের জায়গা ভেবে নিয়েছেন বলে অভিযোগ। বেশ কয়েকবছর আগে পুরসভা একবার মাঠেও নেমেছিল। তখন দেখা গিয়েছিল, বহু আবাসিকের একটি মাত্র গ্যারাজ। কিন্তু গাড়ির সংখ্যা দুই বা তার বেশি। দ্বিতীয়ত কারও বাড়িতে গ্যারাজের জায়গা আছে। কিন্তু কেউ কেউ সেই জায়গাটিকে ফুলের বাগান বা অন্য কাজে ব্যবহার করেছেন। ফলে গাড়ি রাখার জায়গা নেই। সরকারি রাস্তায় তাঁরা গাড়ি রাখছেন। বেআইনি পার্কিংয়ের বেশিরভাগই সল্টলেকের বাসিন্দা। সেই সঙ্গে কেষ্টপুরের বহু মানুষও সল্টলেকে রাতে গাড়ি পার্ক করেন। আবার সকালে নিয়ে চলে যান। খালপাড়ের ধারে এই ঘটনা হামেশাই ঘটে।
বেআইনি পার্কিংয়ের জেরে রাস্তা সংস্কার করতে গিয়েও সমস্যায় পড়তে হয় পুরসভাকে। বছর তিনেক আগে বৈশাখী এলাকায় রাস্তায় নতুন পিচ দিতে গিয়ে ফাঁপরে পড়েছিল পুরসভা। এক ব্যক্তি রাস্তার উপর গাড়ি পার্ক করে দুবাই চলে গিয়েছিলেন। সেই গাড়ির অংশ ফাঁকা রেখেই রাস্তা সংস্কার হয়েছিল। পরে গাড়ি মালিক ফেরার পর গাড়ি সরানো হলে বাকি অংশে পিচ পড়েছিল। গত বছর মার্চ মাসে বিধাননগর কমিশনারেটের পক্ষ থেকে বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল। ফোন করে বহু মালিককে ডেকে গাড়ি সরানো হয়। অনেকের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল। পুলিশের আধিকারিক বলেন, বেআইনি পার্কিং রুখতে ব্লকে ব্লকে অনেকবার অভিযান করা হয়েছে। এখনও রুটিন অভিযান চলে। মামলাও করা হয়। যাতে মানুষ সচেতন হন।